দেশজুড়ে

‘জীবনের শেষ’ ভোট দিয়ে খুশি মমতাজ বেগম

আগামী পাঁচ বছর বাঁচি কি না জানি না, পছন্দের প্রার্থীকে আমার জীবনের শেষ ভোটটি দিয়ে গেলাম। পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ, ভোটটা দিতে পেরে সুস্থ লাগছে।

কথাগুলো বলছিলেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিতে আসা শতবর্ষী বৃদ্ধা মমতাজ বেগম। তিনি ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গৈড্য গ্রামের বাসিন্দা। দেবরের ছেলে মো. দিনার হাওলাদারের কোলে বসে ২০ নম্বর পূর্ব গৈড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসে ভোট দেন তিনি।

মমতাজ বেগম বলেন, আমি জীবনে অনেক ভোট দিয়েছি। জীবনে আর ভোট দিতে পারি কিনা? শেষ বয়সে এসে ভোট দিলাম। অনেক ভালো লাগলো। ভোটের কথা শুধু সবার মুখে শুনি। আজ ভোট তাও জানতাম না। হাঁটতে পারি না তাই বিছানায় পড়ে থাকি। ভেবেছিলাম ভোট দিতে পারব না। কিন্তু দেবরের ছেলে কোলে করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর ধরে বাতের ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছি। খুবই অসুস্থ, ভোটটা দিতে পেরে সুস্থ লাগছে।

এই বৃদ্ধার বড় ছেলে সোহরাফ ব্যাপারী বলেন, আমরা চার ভাই ও চার বোন। বাবা (মৃত মাস্টার এখলাস উদ্দিন ব্যাপারী) ৬ বছর আগে মারা গেছেন। বাবা দুইবার ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। আজ অনুনয়-বিনয় করে মা বলছিলেন ভোট দেবেন, তাই চাচাতো ভাই দিনার ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যায়। মার বয়স হয়েছে, কতদিন বাঁচেন আল্লাহ জানেন। আল্লাহ মাকে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখুন।

কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের এসআই মো. রাসেল বলেন, যারা বয়স্ক ও অসুস্থ তারা কেন্দ্রে আসা মাত্র আমরা ভোট দিতে সহায়তা করি। মমতাজ বয়স্ক তাই তাকে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা সাহায্য করেছেন। দেখলাম তিনি ভোট দিতে পেরে খুব খুশি।

ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব গৈড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. চঞ্চল শেখ জানান, শতভাগ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে ৫৬০ জন পুরুষ এবং ৫২৭ জন নারী।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া ও জাজিরা পৌরসভায় শনিবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এই তিনটি পৌরসভায় মোট ভোটার ৪৫ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে ২২ হাজার ৬৮০ জন পুরুষ এবং ২২ হাজার ৫৪৬ জন নারী।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস