বিশেষ প্রতিবেদন

সেন্টমার্টিনে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, ভোগান্তিতে পর্যটকরা

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন তার স্বপ্নের কাছে পৌঁছায়। তবে পরিশ্রমের পাশাপাশি একটু অবসর নেয়ারও দরকার আছে। বর্তমান যান্ত্রিক সময়ে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিক রাখতে মানসম্পন্ন সময় কাটানোর বিকল্প নেই। সেটা হতে পারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ঘুরতে যাওয়া। সুন্দর সময় কাটালে মানসিক প্রশান্তি আসে। এতে মানুষের প্রতি মানুষের আন্তরিকতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক ও পারস্পরিক বন্ধন অটুট হয়।

দেশের মধ্যে এমন মানসম্পন্ন সময় কাটাতে স্থান হিসেবে অনেকেই বেছে নেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন। বর্তমানে সেন্টমার্টিনে এসে হতাশ হচ্ছেন পর্যটকরা। কারণ পর্যটন এলাকাটি দুর্গন্ধ, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও খাবার হোটেলের ফেলে দেয়া মাছের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে ভরা। এতে পর্যটকদের ভোগান্তি বেড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজঘাটের কাছে অর্ধশতাধিক বা তার চেয়ে বেশি হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। এসব হোটেলের রান্নার মূল মেন্যু সামুদ্রিক মাছ। হোটেলগুলোর রান্না করা মাছের বিষ্ঠা ফেলছেন পার্শ্ববর্তী কোনো এক স্থানে। এতে সেসব ময়লা পচে গন্ধ তৈরি করছে, যা ভোগান্তি তৈরি করছে পর্যটকদের।

অবস্থা আরও ভয়াবহ সেন্টমার্টিনের উত্তর-পূর্ব কোণে। এখানে গোসল-সাঁতার কাটাতো দূরের কথা, এ বিচে নামাও নিষিদ্ধ। এ বিচের পরিচিতি ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে। জায়গাটিকে উত্তর-পূর্ব কোণও বলেন স্থানীয়রা। বছরের বিভিন্ন সময় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এই জায়গাটি নিয়ে গড়ে উঠছে নানা মিথ।

সুন্দর এ স্থানটিতে মানুষের আনাগোনা নেহাত কম নয়। যদিও পানিতে নামছেন না কেউ। উত্তর থেকে পশ্চিমে হালকা প্রবালের বিচ এটি।

ভোগান্তি হলো, এখানে বিচের বালুতে ছোট ছোট গর্ত করে মলত্যাগের দৃশ্য শত শত। একদিকে হোটেল-রেস্তোরাঁর ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা অন্যদিকে মানুষের মলমূত্র সেখানকার পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্টের বিষয়ে পর্যটকরা জানান, সবার আগে পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন বিষয় আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে।

ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণকারী কলেজশিক্ষক ফেরদৌসি আহমেদ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের পরিবেশ এখন নোংরা, গন্ধে বিষাক্ত হয়ে উঠছে। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ, ময়লা ফেলা, সাগরের মাঝে প্লাস্টিকের বোতল ফেলা হচ্ছে। এভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে কিছু করতে গেলে উল্টো প্রতিক্রিয়া আসবে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

কালাম আহমেদ নামে আরেক ভ্রমণকারী বলেন, ‘এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি হয় এটা এমন কিছু স্থানীয় বা দর্শনার্থীরা যেন করতে না পারে।’

হোটেলের বিষ্ঠা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে, এমন দাবি হোটেল ব্যবসায়ী শাহীনের। তিনি বলেন, ‘আমরা খাবার রান্না বা বারবিকিউ করার পর ময়লা একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিই। বেড়াতে আসা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখেন।’

ইএআর/এমএসএইচ/এসএইচএস/এমএস