ষাটের দশকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নওয়াব আলী, অধ্যাপক এনামুল হক, আবুল হায়াত মিয়াসহ তাদের অনুসারীরা মিলে নবাবগঞ্জ কলেজ চত্বরে একটি শহীদ মিনার তৈরি করেন। সেসময় বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সম্মান জানানো হতো। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা শহীদ মিনার ভেঙে দিয়ে এর ইটগুলোও নিয়ে যায়।
এরপর ১৯৭২ সালে শহরের সবুজসংঘ মোড়ে মাটি দিয়ে ইট গেঁথে আবারও অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পরের বছর ১৯৭৩ সালে কলেজ চত্বরে পুনরায় স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এটিই জেলার প্রথম শহীদ মিনার। পরবর্তীতে এটিই জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে পরিচিতি পায়।
১৯৪৮ সালে ভাষার দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়, ১৯৫২ সালে তা পূর্ণরূপ পায়। ৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদরা বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে ভূমিকা রাখেন। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। মহান মুক্তিযুদ্ধ এ ভাষা আন্দোলনেরই ফসল। সে কারণে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ যেকোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাযহারুল ইসলাম তরু বলেন, ‘১৯৯১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান সেন্টু পৌরসভা চত্বরে একটি শহীদ মিনার তৈরি করেন। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে ছিল নবাবগঞ্জ কলেজ চত্বরে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার। বিশেষ দিবসে মানুষ ফুল নিয়ে ছুটে আসতেন কলেজ চত্ত্বরের শহীদ মিনারে। কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সুলতানা রাজিয়া সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কমিটি গঠন করেন। এরপর জাতীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে শহীদ মিনার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরনো শহীদ মিনারটি ভেঙে তার পাশে একটি নতুন শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। এ শহীদ মিনার তৈরিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, শ্রমিক ইউনিয়ন ও রিক্সাচালকসহ সকল শ্রেনি-পেশার মানুষ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন।’
২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ এ শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন।
মোহা. আব্দুল্লাহ/এমএইচআর/এমএস