দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাকিয়া তাবাসসুম জুইকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত হয়ে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন জাকিয়া তাবাসসুম জুই শনিবার (৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে দিনাজপুর আইনজীবী সমিতি সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে আইনজীবীদের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির আহ্বায়ক ইমামুল ইসলাম বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবার পরও অবৈধভাবে বৃদ্ধির বুধবার (৩ মার্চ) বেলা আড়াইটায় সাধারণ সভা আহ্বান করে। সেই দিন আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য মৌলানা হাবিবর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। সমিতির প্রথা অনুযায়ী ফুলকোট রেফারেন্স ও শোকসভা হওয়ায় সকল কার্যক্রম বাতিল করতে হয়। ওইদিন সমিতির সভাপতি সংবিধান তোয়াক্কা না করে সাধারণ সভাটি বৃহস্পতিবার (৪ মার্চে) হবে বলে ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে আইনজীবীদের একটি অংশ গঠনতন্ত্র রক্ষায় নতুন ভবনে প্রতীক অনশন ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করে। বেলা আড়াইটায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হামলা চালায়। এসময় রবিউল ইসলাম রবি, মকসেদুর রহমান সাহাজাদা, সারোয়ার আহম্মেদ বাবু, হাবিবুল্লাহসহ ২০ থেকে ২৫ জন আহত হন।
এসময় আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান জাহানী, সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব এবিএম শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পারভেজ সোহেল রানা জানান, ‘অসুস্থ বোধ করায় ও ব্যথা অনুভব করায় তিনি নিজে এসে ভর্তি হন। শনিবার (৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসাপাতালের উদ্দ্যেশে রওয়ান দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি ও ছয় কোটি টাকার দুর্নীতিসহ নয়টি এজেন্ডা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সাধারণ সভা শুরু হয়। এসময় সমিতির সাবেক কমিটির নেতারা সভাস্থলে গিয়ে আপত্তি করেন ও সভা বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত দফায়-দফায় সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এমকেএইচ