সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন ঝুমন দাস আপনের মা নিভা রানী দাস।
বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) দুপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহার আদালতে মামলাটি করেন নিভা রানী দাস। আদালত মামলাটি ডিবি পুলিশকে তদন্তের জন্য দিয়েছেন।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেবাংশ শেখর দাস জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শাল্লা থানার পুলিশ মামলাটি না নেয়ায় আমরা আদালতে দাখিল করেছি। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে মামলাটি ডিবির ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিভা রানী দাস মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার ঘরে হামলাকারীরা ঢুকে পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। মামলায় তিনি নাচনি, চন্ডিপুর, ধনপুর ও কাশিপুরসহ কয়েকটি গ্রামের ৭২ জনের নামোল্লেখসহ অন্তত ২ হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি অংশ নেয় বলে উল্লেখ করেছেন।
মামলার বাদী নিভারাণী দাস আরও উল্লেখ করেন, গত ২৫ মার্চ এই মামলাটি তিনি শাল্লা থানায় দায়ের করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ মামলাটি না নেয়ায় আজ বৃহস্পতিবার আদালতে মামলাটি দাখিল করেছেন। আদালতের কাছে তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে তার ছেলেরও মুক্তির দাবি করেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াগাঁওয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সময়ে দলের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত চন্দ্র নন্দি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার ডাল্টন তালুকদার, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা সুবীর তালুকদার বাপ্টু, শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ নিভা রাণী দাসের ছেলে ঝুমন দাশ আপন হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। এর জেরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে গ্রামের ৮৫টি ঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়।
লিপসন আহমেদ/এফএ/এমকেএইচ