দেশজুড়ে

জায়গা দখল করে আবাসিক প্রকল্পের সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামে নিজের আবাসিক প্রকল্পে যেতে অন্যের জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আদালতে মামলা করা হলেও দখল অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়ে থানায় একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে সদর উপজেলার উলচাপাড়ার সহিদ মিয়া সুরিয়াখোলা মৌজায় ৩৭ শতাংশ নাল ভূমি ক্রয় করেন। ২০১৫ সালের সহিদ মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর এই জায়গার মালিক সহিদ মিয়ার স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে। এই জায়গার পাশের বাড়ি রোকন উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আশপাশের জায়গা-জমি কিনে মাটি দিয়ে ভরাট করে প্লট আকারে হাউজিং প্রকল্প শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে রোকন উদ্দিন মৃত সহিদ মিয়ার ওয়ারিশদের ৩৭ শতক জায়গা দখল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যর্থ হয়। তবে এই জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রোকন উদ্দিন তার হাউজিং প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ করেন। এ ঘটনায় সহিদ মিয়ার ছেলে আবু সায়েম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে মামলা দায়ের করেন। আদালত সদর মডেল থানাকে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করতে আদেশ দেন।

পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার পর রোকন উদ্দিনকে গত ৪ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে নোটিশ জারি করেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে ওই তারিখে আদালত না বসায় পরবর্তী তারিখের অপেক্ষায় রয়েছেন বাদী। এর আগে আদালতে মামলা দায়ের করায় রোকন উদ্দিন বাদী আবু সায়েমকে হুমকি দেন। হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সায়েম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারেননি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু সায়েমের অভিযোগ, ‘স্থানীয় সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজন রোকন উদ্দিনের পক্ষে কাজ করছেন। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের জায়গা দখল নিতে চাচ্ছেন। আমি ন্যায় বিচার চাই।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সফিউল্লাহ বলেন, ‘এই জায়গার বিরোধ নিয়ে উভয়পক্ষ সার্ভেয়ার এনে একসঙ্গে মাপজোক করেন। তখন দুপক্ষই মেনে নেন। কিন্তু এর একদিন পরই রোকন উদ্দিন বলেন, তার সার্ভেয়ার ভুল করেছে। তাই পুনরায় জায়গা মাপা হবে। কিন্তু সায়েম আর আসেননি। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি মীমাংসা করতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ দেয়ার পর তদন্তের ভার আমাকে দেয়া হয়। আমি স্থানীয় বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু উভয়পক্ষই যার যার অবস্থানে অটল রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত যেন না হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।’

অভিযুক্ত রোকন উদ্দিন বলেন, ‘আমি কারও জায়গা দখল করে রাস্তা তৈরি করি নাই। যদি দখল করে থাকি মাপজোক করুক। উল্টো সে আমার জায়গা দখল করে রাখছে।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/এমকেএইচ