দেশজুড়ে

নওগাঁ সদর হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে টয়লেটের নোংরা পানিতে ভোগান্তি

নওগাঁ সদর হাসপাতালে ‘মহিলা গাইনি ও অর্থো ওয়ার্ড’ বিভাগের টয়লেটের নোংরা পানিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনসহ ওই ওয়ার্ডের নার্সরা। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তারা।

নওগাঁ সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট। এরমধ্যে ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবন তৈরি করা হয়। তবে সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। তবে ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় তিন বছর ধরে রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এখানে ‘মহিলা গাইনি ও অর্থো ওয়ার্ড’ বিভাগের টয়লেটের পানি বেরোনোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তা জমা হয়ে থাকে।

এতে করে নোংরা পানিতে মেঝে শ্যাওলা হয়ে পিচ্ছিল হয়ে যায়। নোংরা পানি মানুষের পায়ে করে ওয়ার্ডে চলে আসে। অনেক সময় টয়লেটের দরজায় মোটা চট (বস্তা) রাখা হয়।

ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স বলেন, ওয়াশরুমের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। জমে থাকা পানিতে তাদের পা পিছলে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে অনেক বার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো সমাধান হয়নি।

জেলার পোরশা উপজেলা থেকে আসা রোগীর স্বজন আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, তার মেয়ে গাইনি ওয়ার্ডে দুইদিন ধরে আছেন। মেয়ের সিজার করে বাচ্চা প্রসব হয়েছে। প্রতিদিন বিশেষ করে দুপুরের দিকে বাথরুমে বেশি চাপ থাকে। গোসলসহ কাপড় পরিষ্কার করতে চাপ পড়ে। এতে করে বাথরুমের মেঝেতে পায়ের গোড়ালি সমান নোংরা পানি জমা হয়ে থাকে।

বদলগাছী উপজেলার কুশারমুড়ি গ্রামের রোগীর স্বজন আছিয়া বেগম বলেন, এই ওয়ার্ডের বাথরুমের নোংরা পানি বের হতে পারে না। নোংরা পানিতে পা দিতেও খারাপ লাগে। হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার জন্য এসে বাথরুমের এ অবস্থার কারণে এখন রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে যাবে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইদুল হক বলেন, সমস্যাটি সমাধানে গণপূর্ত বিভাগকে বার বার চিঠি দেয়া হয়েছে। সবশেষ গত কয়েকদিন আগেও চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করা হয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হক বলেন, পানি বের হওয়ার যেসব রাস্তাগুলো আছে সেগুলো জাম্পিং করে। ক্লিনাররা ঠিকমতো কাজ করে না। তাদের সমস্যাগুলো আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। যেহেতু হাসপাতাল একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, জনগণের সেবা পাওয়ার অধিকার আছে। তবে আমাদের আন্তরিকতার অভাব নাই।

তিনি বলেন, পানি বেরিয়ে যাওয়ার পথে পাইপ সেটিং এ যদি ভুল হয় তাহলে জাম্পিং হবে। যদি এরকম সমস্যা হয়ে থাকে ওই ওয়াশরুম ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর সবগুলো পাইপের সেটিং উল্টিয়ে দেখতে হবে। তবে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা হবে।

আব্বাস আলী/জেডএইচ/