দেশজুড়ে

বেনাপোলে কোয়ারেন্টাইন থেকে বাড়ি ফিরলেন ১০৫ জন

যশোরের বেনাপোলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত ফেরত যাত্রীদের মুখে হাসি ফুটেছে। হোটেলগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। স্বজনদের নিতে বেনাপোল এসেছেন তাদের আত্মীয়রা।

১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর ঘরে ফিরছেন ১০৫ জন যাত্রী। মঙ্গলবার (১১ মে) শেষ হয় তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন।

ভারত ফেরত এসব যাত্রীদের বেনাপোলের ৬টি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তাদের মধ্য অসুস্থতাজনিত কারণে ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, ১৪ দিন বিভিন্ন হোটেল ও শেল্টার হোমে থাকা প্রায় দুই হাজার ৬শ' ৬৩ জন পালাক্রমে ঘরে ফিরবেন।

মঙ্গলবার সকালে ঘরে ফেরা এসব যাত্রীদের ফুল দিয়ে বিদায় জানান শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের যাতায়াতে সহায়তা করা হয়।

হোটেল পোর্ট ভিউতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ঢাকার মোখলেছুর রহমান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, বাড়িতে সন্তানদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন এই আনন্দে কোয়ারেন্টাইনে থাকার কষ্ট ভুলে গেছেন।

এদিকে বুধবারও (১২ মে) নতুন করে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন আরও তিন যাত্রী। তবে ১৬ মে পর্যন্ত কলকাতা দূতাবাস থেকে আর কোনো ছাড়পত্র দেয়া হবে না বলে দূতাবাসের গেটে নোটিশ টানিয়ে দেয় হয়েছে বলে জানান ভারত থেকে আসা পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।

এদিকে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত ফেরতরা ঈদের দিন পাবেন জেলা প্রশাসনের আতিথেয়তা। যশোরের বেনাপোলের ১৩টি হোটেলে ৩৯৭ জন, ও ঝিকরগাছার গাজীর দরগাহ মাদরাসায় ১৪০ জন রয়েছেন।

হোটেল ও মাদরাসার কোয়ারেন্টাইনে থাকা মুসলিমদের ঈদের জামাত হবে সংশ্লিষ্ট হোটেলসহ মাদরাসার ছাদে। এছাড়া এদিন সকাল ও দুপুরে জেলা প্রশাসনের আতিথেয়তা উপভোগ করবেন তারা।

দীর্ঘ এক মাস রমজানের রোজা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর শুক্রবার উদযাপিত হবে। সাধারণত পরিবারে সবাইকে নিয়ে ও আত্মীয়-স্বজন মিলে ঈদ পালন করা হয়। সাধ্যমত দান করা, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাসহ নানা ব্যস্ততায় ও আনন্দে মুখরিত হয় ঈদ। সেই ব্যস্ততা ও বাস্তবতা থেকে দূরে অবস্থান করে ভিন্ন মাত্রায় এবং ভিন্ন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে হবে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত ফেরত বাংলাদেশিদের।

যশোর জেলা প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যদিও কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারত ফেরত যাত্রীদেরকে নিজ খরচেই থাকা-খাওয়ার বিধান রয়েছে। তবে ঈদের দিন তাদেরকে যশোর জেলা প্রশাসনের অতিথি হিসেবেই সংশ্লিষ্ট হোটেলে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হবে।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি সূত্রে জানা যায়, মহামারি করোনার কারণে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় ভারত থেকে বেনাপোল সীমান্ত হয়ে ফেরা বাংলাদেশিদের জন্য বেনাপোল, ঝিকরগাছা গাজীর দরগাহ যশোরের হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা হয়।

ভারত ফেরত যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পার্শ্ববর্তী মাগুরা, সাতক্ষীরা, খুলনা, নড়াইল ও ঝিনাইদহে জেলায় স্থানান্তর করা হয় অনেককে। এদের প্রত্যেককে নিজ খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। যদিও জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট হোটেলকে ভাড়া ৫০ শতাংশ মওকুফ করার অনুরোধ করে।

এছাড়া ভারত ফেরত করোনা পজেটিভ যাত্রীদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে যাদের কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে এবং করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে তারা জেলা প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন।

জামাল হোসেন/জেডএইচ/