দেশজুড়ে

‘ভুল করেছি আর হবে না’, ভাতার কার্ডের টাকা নিয়ে অফিস সহায়ক

বগুড়ার আদমদীঘিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে দরিদ্র এক নারীকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে অর্থ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

টাকা দিয়েও কার্ড না পাওয়ায় সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউপির বড়আখিড়া গ্রামের ভুক্তভোগী সেতু বেগম। এ সময় তিনি টাকা ফেরত ও তার বিচার দাবি করেন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলায় ৩০০ জন দুস্থ পরিবারে মাঝে মাতৃত্বকালীন ভাতার বরাদ্দ হয়। সেই ভাতার আওতায় নাম তুলতে উপজেলার বড়আখিড়া গ্রামের শামীম হোসেনের স্ত্রী সেতু বেগম তার মামা শ্বশুর আজিজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক দফতরে যান। সেখানে কথা হয় অফিস সহায়ক মশিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতা করে দেয়ার কথা বলে তাদের কাছে থেকে দুই হাজার টাকা নেন। ৩-৪ মাস পেরিয়ে গেলেও তারা ভাতার আশায় ওই অফিস সহায়কের পিছনে ঘুরতে থাকেন।

ভুক্তভোগী সেতুর মামা শ্বশুর আজিজুল ইসলাম খানের অভিযোগ, মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে অফিস সহায়ক মশিউর রহমান তাদের বাইরে নিয়ে এসে কার্ড করে দেয়ার জন্য খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা এবং কিছু কাগজপত্র নেন। এরপর বেশ কিছুদিন তার পিছনে ঘুরেও তিনি শুধু তাদের আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে অভিযুক্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মশিউর রহমান টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অফিসিয়াল কিছু খরচ আছে সেজন্য দুই হাজার নেয়া হয়েছে। কার্ড না হলে টাকা ফেরত দেব। ভুল করেছি আর এমন হবে না।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, কার্ডের জন্য অফিসিয়ালি কোনো খরচ নেয়া হয় না। অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। অফিস সহায়ক মশিউর রহমানের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমীন বলেন, কোনো ভাতাভোগীর কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেডএইচ/জিকেএস