নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম খান গত তিনমাস ধরে অবৈধভাবে পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান ইমামুল আল হাসান তিতু। বহিষ্কার আদেশের বিরুদ্ধে করা রিট মামলা খারিজ হওয়ার পরও পদে থাকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলার যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডি.এম এনামুল হক হত্যা মামলার আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শামসুল আলম খানের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ মে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। তিনি ওই হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী গত বছরের ১৮ মে শামসুল আলম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং বদলগাছী উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট মামলার আবেদন করেন চেয়ারম্যান শামসুল আলম। ১৫ ফেব্রুয়ারি তার মামলার আবেদনটি খারিজ করে দেন হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি জেবিএম হাসান।
মামলার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় শামসুল আলম খানের বাহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে উল্লেখ করে বদলগাছী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইমামুল আল হাসান তিতু উপস্থাপন করেন এবং সেটি ১৫ মার্চ উপজেলার মাসিক সভার রেজুলেশানে লিপিবদ্ধ করেন।
এর আগে ৬ মার্চ শামসুল আলম খানের বহিষ্কারাদেশ বহাল এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আবেদন জানিয়ে রায়ের ছায়ালিপিসহ নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইমামুল আল হাসান তিতু। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশের পর তিন মাসের অধিক সময় পার হলেও শামসুল আলম খান তার পদে বহাল থেকে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইমামুল আল হাসান তিতু বলেন, ‘মামলা খারিজের পর আমি মামলার রায়ের ছায়ালিপি সংযুক্তি করে গত ৬ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের আবেদন এবং উপজেলার মাসিক সভায় উপস্থাপন করি। এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’
বদলগাছী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম খান বলেন, ‘আমি মামলার বাদী। সরকারের পক্ষে মামলাটি লড়ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। হাইকোর্টে মামলা চলমান আছে। গত বছরের ১৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আমার বহিষ্কার আদেশ কেন অবৈধ হবে না মর্মে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের বিরুদ্ধে রুল জারি করে। ওই মামলার আদেশ না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। ১৫ জুন (মঙ্গলবার) মামলার শুনানি রয়েছে। এরপর দায়িত্বে থাকতে পারব কিনা তা আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। ভাইস চেয়ারম্যান আমার চেয়ারে বসতে উঠেপড়ে লেগেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে অভিযোগে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে তা ২০১১ সালের ঘটনা। ওই অভিযোগে যদি আমাকে বরখাস্ত করা হয় তাহলে ২০১৯ সালে ভোট করতে দেয়া হলো কীভাবে। তখন আমার প্রার্থিতা বাতিল হলো না কেন।’
নওগাঁ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘আমরা এ সংক্রান্ত আদালতের আদেশের কোনো কাগজপত্র পাইনি। ইউএনওর কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি কাগজপত্র সংগ্রহ করে দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া মামলা আছে কিনা বা আপিল করা হয়েছে কিনা জানতে পারব।’
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।’
আব্বাস আলী/এসজে/এএসএম