দেশজুড়ে

স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে সন্তান নিয়ে ভূমি কার্যালয়ে নারী

মাদকাসক্ত স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে সন্তানদের নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আসেন রেহেনা বেগম নামের এক নারী। বুধবার (১৬ জুন) বিকেলে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন কার্যালয়ে।

এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন তাদের অভিযোগ শুনে শ্রীহরিপাড়া গ্রামের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালান। এসময় বিচারক জুবায়ের হোসেন অভিযুক্ত লুৎফর রহমানের কাছ থেকে মাদক সেবন ও নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।

অভিযুক্ত লুৎফর রহমান দুই সন্তানের জনক। তিনি মোটরগাড়ির শ্রমিক। তিনি মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীহরিপাড়া গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে।

জানা যায়, লুৎফর রহমান নিয়মিত মাদক সেবন করেন। মাদকের টাকা না পেলে স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করেন। আবার কখনো দা দিয়ে ঘরের বেড়া কেটে ও ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করেন।

ঘটনার পর উপজেলা ভূমি অফিস মির্জাপুর ফেসবুক পেজে পোস্ট দেয়া হয়- ‘দুই সন্তানের বাবা তিনি। অথচ মাদক সেবন করেন। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কখনো স্ত্রীকে মারধর করেন, কখনো ছেলে মেয়েকে মারেন। আবার কখনো দা দিয়ে ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট করেন। বাবারা কী এমন হয়? কখনো নয়। এর জন্য দায়ী মাদক। আমরা সমাজ থেকে মাদকের অবসান চাই।’

এ পোস্ট দেয়ার পর বিষয়টি জানতে পারে সবাই। এসময় সহকারী কমিশনারকে বাহবা দেয় স্থানীয়রা।

মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন জানান, লুৎফর একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। স্ত্রী সন্তানদের নির্যাতনের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত তিনি। এর আগে কয়েকবার তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

লুৎফর রহমানের স্ত্রী রেহেনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নিয়মিত মাদকসেবন করেন। তার চাহিদামতো টাকা না দিলে আমাকে ও সন্তানদের মারধর করেন। গলায় দা ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেন। সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। ছেলে তারেক রহমান ১০ম ও মেয়ে তাবাচ্ছুম আক্তার তুয়া দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাই। ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ছয় মাসের সাজা দিয়েছেন।’

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন জানান, লুৎফর রহমান মোটরগাড়ির শ্রমিক হলেও নিয়মিত মাদক সেবন করেন। স্ত্রী সন্তানদের মারপিট ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। বুধবার বিকেলে তাদের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এস এম এরশাদ/এসএমএম/এএসএম