দেশজুড়ে

‘মৃত’ থেকে ‘জীবিত’ হয়েও ভাতা পাচ্ছেন না কাচু শেখ

ভোটার তালিকায় মৃত থেকে দীর্ঘদিন পর জীবিত হলেও বয়স্ক ভাতা ফিরে পেলেন না কাচু শেখ (৭৭)। তিনি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার শামসপাড়া এলাকার মৃত আসমত শেখের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাচু শেখ ২০১০ সাল থেকে বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। ২০২০ সালের জুন মাসে সর্বশেষ ভাতা তোলার পর তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ এক বছর ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধ।

ভোটার ডাটাবেজে ‘মৃত’ দেখায় ভাতা বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি সমাজসেবা দফতরের। নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, গত রোববার (২০ জুন) তাকে ফের জীবিত দেখানো হয়। তারপরও ফিরে পাচ্ছেন না বয়স্ক ভাতা।

কাচু শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বয়স্ক ভাতা তুলে আসছিলেন। গতবছর জুলাই মাসে ব্যাংকে ভাতা তুলতে গেলে ব্যাংক ভাতা বই নিয়ে সমাজসেবা দফতরে যোগাযোগ করতে বলে। সে মোতাবেক তিনি সমাজসেবা অফিসে যান। পরে বই হালনাগাদ করতে স্মার্টকার্ড নিতে নির্বাচন অফিসে যান। তবে ভোটার ডাটাবেজে ‘মৃত’ দেখায় তিনি স্মার্টকার্ড নিতে পারেননি। বই হালনাগাদ না হওয়ার ফলে তখন থেকেই তার ভাতা বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কাচু শেখ গত রোববার অফিসে আসেন। পরে আমরা তার ভোটার আইডি কার্ডের নম্বরটি দিয়ে ভাতার জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে সার্চ দেই। সেখানে তার ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) ডাজেন্ট ম্যাচ দেখায়। যেহেতু বিধি মোতাবেক নির্দেশনা দেয়া আছে কারো ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর এমআইএসে ডাজেন্ট ম্যাচ দেখালে তাকে ভাতা দেয়া যাবে না, কাজেই আমরা তাকে ভাতা দিতে পারি না। তবুও তার আগের তিন মাসের বকেয়া ভাতা তুলে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও মেম্বারদের তথ্য ভুলের কারণে জীবিতরা ‘মৃত’ হয়ে গেছেন। পরে যখন জানা যায় তারা জীবিত তখন নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে তাদের জীবিত করা হয়েছে। কাচু শেখও এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

মাসুদ রানা/এসআর/এএসএম