ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুশুরী ফজুর বাড়ি থেকে দাউদপুরের বেলদী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে এলজিইডির অর্থায়নে চলছে সংস্কার ও সড়ক বৃদ্ধির কাজ। তবে সড়কের মাঝখান দিয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্বাচল জোনাল অফিসের প্রধান সঞ্চালন লাইনের শতাধিক খুঁটি থাকায় এ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, দীর্ঘ ভোগান্তির পর এই সড়ক সংস্কার ও বৃদ্ধির কাজ শুরু হলেও বিদ্যুতের এসব খুঁটির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে পূর্বাচল থেকে বেলদী পর্যন্ত কাজ শুরু হলেও মুশুরী থেকে হাবিবনগরের কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে কাজের গতি না থাকা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুশুরী ফজুর বাড়ি থেকে পূর্বাচলমুখী হাবিব নগর পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় বিভিন্ন জায়গায় খানা-খন্দে ভরে গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যানবাহন, চালক ও পথচারীরা।
আবার একই সড়কের পূর্বাচলের শিমুলিয়া বাজার থেকে বেলদী পর্যন্ত সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। মাঝখানে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১১ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের শতাধিক খুঁটি থাকলেও কাজ চলমান রেখেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি করছে।
শিমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফ মালুম বলেন, বিগত চার বছর ধরে এ সড়কের বেহাল দশা। আমরা আশায় ছিলাম, দ্রুত সংস্কার ও সড়ক বৃদ্ধির কাজ শেষ হবে। এখন শুনছি, খুঁটি সরাতে সময় লাগবে। আবার সড়ক বাড়ানোর দাফতরিক কাজ শেষ হয়নি। ফলে এ ভোগান্তি কবে শেষ হবে, আমাদের জানা নেই।
বেলদী এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান তুষার বলেন, এই সড়কের মেরামত কাজ ঝুলে থাকায় উত্তর রূপগঞ্জের দাউদপুরের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সড়কে নিয়মিত ইটবাহী শক্তিশালী ট্রাক্টর চলাচল করে। এ সময় একাধিকবার বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ট্রাক্টরের ধাক্কা লেগে খুঁটি ভেঙে গেছে। অনেকেই বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হয়েছেন। ফলে একদিকে খানাখন্দে ভরা সড়ক অন্যদিকে বিদ্যুতের খুঁটির ঝুঁকি। সব মিলিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পথচারীরা।
তবে এলজিইডির রূপগঞ্জ উপজেলার প্রধান প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, সড়কটি ১৮ ফুট ছিল। সময়ের প্রয়োজনে এটিকে উভয়পাশে তিন ফুট করে মোট ছয় ফুট বৃদ্ধি করে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে যানবাহন চলাচলের চাপ বেশি থাকায় এটিকে আরও ৬ ফুট বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলমান। অন্যদিকে বিদ্যুতের খুঁটির জন্য কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা পবিসকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, দাফতরিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত এসব খুঁটি সরিয়ে নেবে তারা।
নারায়ণগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পূর্বাচল জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার লাবিবুল বাশার বলেন, এলজিইডির এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি, কাজ চলমান রয়েছে। খুঁটিগুলো সরিয়ে নেয়া হবে। তবে যেসব স্থানে সরানো হবে সেসব স্থান প্রস্তুত না থাকায় সময় লাগতে পারে।
মীর আব্দুল আলীম/এআরএ/এএসএম