দেশজুড়ে

৩২ মণ ওজনের ‘চাঁপাই সম্রাট’র দাম হাঁকছে ৩০ লাখ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ৩২ মণ ওজনের ‘চাঁপাই সম্রাট’। চলন বলন এবং আয়েশি খাবার খাওয়ার জন্যই তার এমন নাম। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চির উচ্চতার গরুটি দেখতেও বেশ মোটাতাজা।

উপজেলার শাহবাজপুর ইউপি সদস্য জুলফিকার আলী এই বৃহদাকার গরুটির মালিক। জেলার সবচেয়ে সুদর্শন ও বড় হিসেবে আলোচিত গরুটি দেখতে প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন ক্রেতারাও। মালিক দাম হাঁকছেন ৩০ লাখ টাকা।

সম্রাটকে দেখতে আসা কয়েকজন বলেন, আমরা এত বড় কোরবানির গরু এর আগে কখনো দেখিনি। বৃহদাকার হওয়ায় গরুটি এলাকায় বেশ আলোচিত। আশপাশের সব গ্রাম থেকে মানুষ দেখতে আসছে।

ইউপি সদস্য জুলফিকার আলী বলেন, ‘১৫ বছর ধরে গরুর খামার করি। বর্তমানে আমার খামারে চারটি গরু আছে। সব গরুই বিক্রিযোগ্য। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় চাঁপাই সম্রাট। আমার খামারে একটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি গাভী ছিল। তার গর্ভে চার বছর আগে জন্ম হয় এই গরুটির। ছোট থেকেই বেশ ভালো খাবার আর প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হওয়ায় সে খুবই শান্ত স্বভাবের। এ ধরনের গরু জেলায় আর একটিও দেখিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গরুটিকে মোটাতাজা করতে বিশেষ কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে খড়, ভুসি, গম, খৈল, কলা ও ঘাস খেয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিদিন লালি ও খৈল দিয়ে ছানা তৈরি করে খেতে দেয়া হয় গরুটিকে। বাসি খাবার খায় না। সব সময় আরাম আয়েশে থাকতে পছন্দ করে। জুন মাসের শেষের দিক থেকেই গরুর পাইকাররা আসছেন চাঁপাই সম্রাটের খোঁজে। তারাও গরুটিকে দেখে বেশ আনন্দ পাচ্ছেন। কিন্তু আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় তাকে বিক্রি করছি না।’

জুলফিকার আলী বলেন, ‘তবে লকডাউনে একটু চিন্তায় আছি। যদি ঈদের আগে সব পশুর হাট খুলে দেয়া হয়, তবে ঢাকার কোনো এক হাটে গরুটিকে বিক্রি করব।’

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রণজিৎ চন্দ্র সিংহ বলেন, ‘শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রতি বছরই ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা পশু মোটাতাজা করে থাকেন। এছাড়া প্রতি বছরই অনেকেই বেশি ওজনের ষাঁড় গরু লালনপালন করে আলোচিত হয়ে আসছে। তবে চাঁপাই সম্রাটের তথ্য আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ দেননি।’

সোহান মাহমুদ/এসজে/জেআইএম