দেশজুড়ে

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ধসের ঘটনায় সেই ইউএনও লিয়াকত ওএসডি

মুজিববর্ষে গৃহহীনদের দেয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দুদিনের বৃষ্টিতেই ধসে পড়ার ঘটনায় বগুড়ার শেরপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত আলী সেখকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল ফাতে মোহাম্মাদ সফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। এতে তড়িঘড়ি করে খালের কিনারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পেয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ পরিচালককে জানানো। এরই পরিপ্রেক্ষিতেই মো. লিয়াকত আলী সেখকে ওএসডি করা হয়। একইসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় অতিদরিদ্র ভূমিহীনদের জন্য সরকারিভাবে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সে মোতাবেক এই উপজেলায় ২ কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে দুই শতক করে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অতিদরিদ্র ১৬৩টি ভূমিহীন পরিবারকে একটি করে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়। দুই কক্ষ, রান্না ঘর ও টয়লেটসহ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্রত্যেকটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এরই ধারাবাহিকতায় খানপুর ইউনিয়নের খানপুর বুড়িগাড়ি নামক স্থানে খালের কিনারায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২২টি ভূমিহীন পরিবার পুর্নবাসনের জন্য আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে সুফলভোগীদের হাতে এসব বাড়ির জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু পাঁচ মাস যেতে না যেতেই এসব নতুন বাড়িতে ঘটছে নানা বিপত্তি। এমনকি বর্ষা মৌসুমের টানা দুদিনের বৃষ্টিতেই দুর্যোগ সহনীয় আটটি ঘর ভেঙে পড়ে।

ওএসডি হওয়া লিয়াকত আলী সেখ ইউএনও হিসেবে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে শেরপুর উপজেলায় যোগদান করেন। ১১ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন।

শেরপুরের বর্তমান ইউএনও মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। তাই আগে কি হয়েছে সেটি বলতে পারব না। তবে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া খালের তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এটি করা হলে আশা করি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো ধসে পড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুরের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে শুনেছি। কিন্তু লিখিত কোনো চিঠি এখনো পাইনি। এছাড়া আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে নেই। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রেও সেটি করা হয়েছে। যা তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

এসজে/এমএস