৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তাস খেলার সময় দুই আসামিকে আটক করেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। আটকের পর তাদের থানায় নিয়ে আসেন। মামলা দেয়ার সময় ধারা কমাতে ঘুষ চান ওই এএসআই। পরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের জামিন দেন।
বগুড়ার আদমদীঘিতে এমনই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত এএসআইয়ের নাম মশিউদ্দীন। তিনি আদমদীঘি থানায় কর্মরত। তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও এক আসামির স্ত্রীর ভাষ্যমতে, ৯৯৯ থেকে একটি ফোন পেয়ে সোমবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সান্দিড়া গ্রামের একটি পুকুর পাড় থেকে তাস খেলার অভিযোগে দুজনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই ওই গ্রামের কতিপয় দালাল চক্রের মাধ্যমে এএসআই মশিউদ্দীন আসামিদের ছেড়ে দেয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করেন। কিন্ত আসামিপক্ষ টাকা দিতে অপারগতা স্বীকার করলে তাদের থানায় নেয়া হয়। পরে ওইদিন রাতে মামলার ধারা কমিয়ে দিতে চেয়ে ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শাহীনা জোয়ারদারের কাছে ছয় হাজার টাকা দাবি করেন এএসআই। কিন্তু তিনি ওই টাকা দিতে না চাওয়ায় রাতেই আটকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরের দিন মঙ্গলবার সকালে সান্দিড়া গ্রামের কয়েকজন দালালকে ফোন করে তিনি (এএসআই মশিউদ্দীন) জামিনের জন্য কিছু টাকা নিয়ে আসতে বলেন। পরে ওই দিনই বেলা ১১টায় আসামিদের পরিবারের সদস্যরা জামিনের জন্য দালালদের মাধ্যমে তার কাছে ছয় হাজার টাকা পৌঁছে দেন। বিকেল ৩টার দিকে জামিন পেয়ে আসামিরা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেন।
জামিনের কথা বলে দালালের মাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার টাকা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামি রুমুনের স্ত্রী রোকশানা বেগম।একই অভিযোগ করেছেন সান্তাহার ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বার) শাহীনা জোয়ারদার। তিনি বলেন, আসামিদের মামলার ধারা কমাতে টাকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি আসামিপক্ষের লোকজনদের টাকা দিতে দেইনি।
এই নারী ইউপি মেম্বার আরও বলেন, ‘পুলিশের কাজ দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কোর্টে পাঠানো, ধারা কমাতে ঘুষ চাওয়া নয়। কিন্তু জামিন করার দায়িত্বও পুলিশ (এএসআই মশিউদ্দীন) নেয় সেটি জানা ছিল না।’
তবে এএসআই মশিউদ্দীনের দাবি, মামলার ধারা কমানোর জন্য কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। আসামিপক্ষ কোনো দিন আদালতে না যাওয়ায় তাদের অনুরোধে জামিনের জন্য উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেয়া হয়েছে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বিষয়টি জানা আছে। কিন্তু জামিনের জন্য টাকা নেয়া হয়েছে বিষয়টি জানা নেই। তবে জামিনের দায়িত্ব তিনি নিতে পারেন না।
এ বিষয়ে আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাজরান রউফের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসআর/এমএস