আর্থিক টানাপোড়েনে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল পড়ালেখা। টাকা জোগাড় না হওয়ায় ফরমপূরণ করতে পারেননি তিনি। এমনকি দেয়া হয়নি অনার্স প্রথমবর্ষের কোর্স ইম্প্রুভ (মান উন্নয়ন) পরীক্ষাও।
নাসিম রানা মাসুদ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা এ যুবক আইটি প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে নিজের সংকট যেমন কাটিয়েছেন, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন অর্ধশতাধিক যুবকের।
নাসিমের আইটি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘টেকফ্লিক্স’। যদিও ২০১৮ সালে ‘গ্রিণ আইটি’ নামে রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন তিনি। এক বছর পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করা হয় বর্তমান নামে।
টেকফ্লিক্স কাজ করে সফটওয়্যার অ্যান্ড মোবাইল অ্যাপস, ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন, হোস্টিং প্যাকেজ, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও অ্যাড ক্রিয়েশন, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পেমেন্ট গেটওয়ে সলুশনসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে।
নাসিম জানান, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃত তার প্রতিষ্ঠানটির সেবা। তার প্রতিষ্ঠানের সেবা নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, ভারতসহ বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশের মানুষ। দেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শাখা করেছেন তিনি। বর্তমানে মাসিক দুই লাখ টাকার বেশি আয় তার।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া এ যুবকের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি বলে বসে থাকেননি। টেকফ্লিক্সেই ভবিষ্যৎ দেখেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র-মেধাবী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে চান।
আইটি সেক্টরে সফলতার সুযোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে নাসিম বলেন, বর্তমানে আইটি সেক্টরে সফলতার সম্ভাবনা বেশি। সিএসই বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করলে, তা আইটি উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। অন্য ডিসিপ্লিনে পড়াশোনার কারণে প্রথমদিকে সমস্যায় পড়তে হতো। এ সমস্যা কাটাতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করার মানসিকতা।
সালমান শাকিল/এএএইচ/এমএস