ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আদর্শ খামারি রিয়াজ চৌধুরী। তার খামারে ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়সহ ঈদের বাজারে বিক্রির জন্য উন্নত জাতের ৩২টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। গরুগুলো বিক্রি হলে লোকজনের ধার-দেনা পরিশোধ করে আরো কিছু গরু ক্রয় করে পালন করার স্বপ্ন ছিল তার।
করোনায় লকডাউন পরিস্থিতিতে এখন তার খামারের গরুগুলো বিক্রির জন্য অনলাইনে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু সেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও কেউ ন্যায্যমূল্য বলছেন না। যার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো গরুই বিক্রি হয়নি তার খামারের।
এমতাবস্থায় গরুর ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন তিনি। চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন উপজেলা পর্যায়ের এ আদর্শ খামারি রিয়াজ চৌধুরী।
শুধু রিয়াজই নয়। ফেনীর অন্তত দুই সস্রাধিক খামারির বাস্তবতার গল্পই এখন এমন। অনলাইনে ক্রেতা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। গরুগুলো নিয়মিত বাজারে প্রদর্শন না করতে পারলে লোকসান দেয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না খামারি ও বিক্রেতারা। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের হিসেব মতে, ফেনীতে কোরবানির জন্য ৭২ থেকে ৭৫ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে জেলায় ২ হাজারেরও বেশি খামারে কোরবানি বাজারে বিক্রিযোগ্য গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ প্রস্তুত রয়েছে অন্তত ৮০ হাজার।
এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৩২২, দাগনভূঞা আট হাজার ৮৩০, ছাগলনাইয়া ১৮ হাজার ৭২৫, সোনাগাজী ১৭ হাজার ৫০৫, ফুলগাজী পাঁচ হাজার ২০৬ এবং পরশুরাম আট হাজার ২২৭টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
এখন এসব পশু বিক্রির জন্য নানা চেষ্টায় মগ্ন রয়েছেন খামারি ও বিক্রেতারা। তবে ফেনীর স্থানীয় কয়েকটি বাজারে স্বল্প পরিসরে গরু বিক্রির আয়োজন করা হলেও সেগুলোতে ক্রেতার দেখা মিলছে না। অনেকেই গরু দেখে দাম জেনে চলে যাচ্ছেন।
সোনাগাজীর উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের মহিষ খামারি আবুল হোসেন জানান, তার খামারে এখন ৭৫টি মহিষ রয়েছে। তিনি কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে ক্রেতা কত। দামও কম। বিক্রিও কম। তাই লোকসানের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। আদর্শ খামারি রিয়াজ চৌধুরী জানান, অনলাইনে দেখে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে খামারে এসে গরু দেখে দাম জেনে চলে যাচ্ছেন। ন্যায্যমূল্য না উঠায় পশু বিক্রি হচ্ছে না।
মাহবুবুল আলম নামের সরকারি এক চাকরিজীবী বলেন, অনলাইনে এখন নানা প্রকার প্রতারণার ফাঁদ রয়েছে। তাই অনলাইনে বিভিন্ন গরু দেখলেও দরদাম করা মুশকিল। বাজার বসলে সরাসরি দেখে শুনে তারপর গরু কেনার ইচ্ছা তার।
প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরিজীবী আবুল হাসেম জানান, করোনায় দেশের প্রায় সব পেশার মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই এবার পশু কোরবানির সামর্থ্য হারিয়েছেন। পূর্বের বছরে যারা একক কোরবানি দিয়েছেন তারা এবার কোরবানিতে অংশীদারি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ কোরবানি দেয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগছেন। ফলে এবার কোরবানির পশুর বাজারে ক্রেতা কম হবে।
ফেনী জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনিসুর রহমান জানান, দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশুর চাহিদা সামান্য কমতে পারে। প্রতারণার সুযোগ থাকায় অনলাইনে ক্রেতারা বিশ্বাস রাখতে পারছেন না।
জেলায় কয়েকটি হাট বাজারে স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতা দিয়ে কোরবানির পশুর বাজার বসানো হচ্ছে। আশাকরি ক্রেতা-বিক্রেতারা সুলভমূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। তাছাড়াও ফেনীতে বেশিরভাগ মানুষ কোরবানির এক-দুইদিন আগেই পশু কিনে থাকেন। তাই এখনই খামারিদের নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। নুর উল্লাহ কায়সার/এমআরএম/এমএস