টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে আগুন লাগায় সেখানকার রোগীদের বাইরে বের করে আনা হয়েছে। তাদের খোলা আকাশের নিচে বিকল্পভাবে অক্সিজেন লাগিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে অনেক দিন আগে বিদ্যুতের ওয়ারিংয়ের কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিদ্যুতের আর কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। এরই মধ্যে হাসপাতালে আইসিইউ চালু করা হয়।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ মিনিট সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা চালাতে যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তা থেকে এ আগুনের সূত্রপাত।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, আগুন লাগার ঘটনায় আইসিইউতে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এর পরিমাণ বলা যাচ্ছে না।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, আইসিইউতে থাকা রোগীদের দ্রুত সরিয়ে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর আইসিইউ বন্ধ রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব আইসিইউ ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হবে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি বলেন, আগুনের ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আইসিইউ ওয়ার্ডে ১০ জন রোগী ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আইসিইউ থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আরিফুর রহমান টগর/এসএমএম/জিকেএস