দেশজুড়ে

যানজটের হটস্পট সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু

ঢাকা বা গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গ যেতে কোনো স্থানেই খুব বেশি যানজট নেই। তবে সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু এলাকার দীর্ঘ যানজট যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কে পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলছে যানবাহন। এর পাশে একটি নতুন সেতু নির্মাণাধীন রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই।

সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একদিকে যেমন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে অন্যদিকে সেতুটির উপরের সংযোগস্থলগুলো ও রাস্তায় প্রায়ই মেরামত করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনও সাফল্য দেখা যায়নি। ফলে ইচ্ছা করলেও সেতুতে দ্রুত গাড়ি পারাপার সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে মহাসড়কে দীর্ঘদিন গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও মেরামতের কাজগুলো সম্পন্ন করে মহাসড়ককে ঈদ যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হয়নি। এছাড়া মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের কাজ এবারের ঈদ যাত্রাকে আরও কয়েকগুণ বেশি ভোগান্তিতে ফেলতে পারে।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে, সিরাজগঞ্জ মোড় থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়কের অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট দেখা যায়নি। তবে মহাসড়কের মফিজ মোড় এলাকা থেকে নলকা সেতু হয়ে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার যানজট দেখা গেছে।

ওই এলাকায় নলকা সেতু ছাড়াও একটি ফ্লাইওভার এবং সড়কের অন্যান্য কাজ চলমান থাকায় আরও তীব্র আকার ধারণ করছে যানজট।

মহাসড়কের কড্ডা এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক ইনস্পেক্টর মো. আব্দুল গণি বলেন, ‘গাড়ির চাপ এই মুহূর্তে একটু কম থাকলেও আবারও বাড়বে। কিন্তু মফিজ মোড় এলাকার সেতু-পশ্চিমের ৬ নম্বর সেতু থেকে নলকা সেতু পর্যন্ত অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট রয়েছে।’

নলকা সেতুকেই এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

একই কথা বলছেন হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী। তিনি বলেন, ‘নলকা সেতুটিই যানজটের অন্যতম কারণ।’

অন্যদিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা এলাকায় রাস্তা খারাপ হওয়ায় প্রায়ই যানজট থাকছে। তবে এখন পর্যন্ত যানজট স্থায়ী না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মহাসড়কের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’

লকডাউন শিথিল করে গণপরিহন চালু করায় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে চাপ পড়েছে দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনের। এছাড়াও ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বেড়েছে কোরবানির পশু পরিবহন। এতে যানজটও বেড়েছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএইচআর/জিকেএস