মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের তিনটি উপজেলায় হঠাৎ অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। জেলার রামগতি, কমলনগর ও রায়পুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিতের পাশাপাশি চরাঞ্চলের বিপুল ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে। কমলনগরের চর মার্টিন এলাকায় একটি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে নদীর পানি বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। রামগতির বিচ্ছিন্ন চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. টিপু জানান, তেলির চর, উত্তর চর আবদুল্লাহ, চর গাসিয়া ও চর মোজ্জামেল পানিতে ডুবে গেছে। জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট ও বাড়ির উঠান ডুবে বসতঘরে পানি উঠেছে। পানিবন্দি হয়ে হাজার মানুষ কষ্ট পোহাচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, তেলির চর বাজার, কামাল বাজার ও চেয়ারম্যান বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
রামগতি উপজেলার মেঘনার ভাঙন-কবলিত বালুর চর, চর আলেকজান্ডার, সুজনগ্রাম, গাবতলী, চর আলগী, চর গোঁসাই, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে, কমলনগরে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ না থাকায় উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন, সাহেবেরহাট ইউনিয়ন, চর মার্টিন ইউনিয়ন, চর ফলকন ইউনিয়ন ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের মেঘনা উপকূলীয় এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
চর মার্টিন ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) নুরুল ইসলাম জানান, চর মার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলম মেম্বার বাড়ির দক্ষিণ পাশের রাস্তাটি জোয়ারের তোড়ে ভেঙে গেছে। এতে মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে রয়েছেন চলাচলকারীরা।
রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারে অন্তত ৫-৬টি গ্রাম পানিতে সাময়িক তলিয়ে মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, এখানে বসবাসকারীরা অবহেলিত ও দরিদ্র। চরজালিয়া, চর ঘাষিয়া, চরইন্দুরিয়া, কানি বগার চর, নতুন কানি বগার চরে ফসলের মাঠের ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় গরু-মহিষসহ গবাদিপশু নিয়ে লোকজন বিপাকে পড়েছেন।
কাজল কায়েস/এসআর