দেশজুড়ে

ট্রলার ডুবি: বেড়াতে গিয়ে দাদির সঙ্গে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর

দাদির সঙ্গে বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল বেড়াতে গিয়েছিল তিন বছরের শিশু সাজিদ। সেই বেড়াতে যাওয়াই কাল হলো তার। সেখান থেকে নৌকাযোগে ফেরার পথে যাত্রীবোঝাই ট্রলারের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রলারের সংঘর্ষের ঘটনায় সাজিদ ও তার দাদি ঝর্ণা বেগম (৫৫) নিহত হয়েছেন।

সাজিদ ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার রামগোয়ালপুরের শাওন মিয়ার ছেলে ও ঝর্ণা বেগম ওই এলাকার খোকন মিয়ার স্ত্রী।

সাজিদের কাকা ও ঝর্ণা বেগমের ছোট ছেলে নীরব বলেন, শুক্রবার সকালে মা ভাতিজা সাজিদকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিলে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। বিকেল থেকে বারবার চেষ্টা করেও আম্মার মোবাইলটি বন্ধ পাচ্ছিলাম। রাতে আম্মার মোবাইল নম্বর থেকে একজন মানুষ ফোন করে জানায় তিনি মারা গেছেন।

তিনি বলেন, এই কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। তখনো জানি না আমার ভাতিজা জীবিত নাকি মৃত। তাড়াতাড়ি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আমরা গাড়ি নিয়ে যায়। হাসপাতালে দেখি আম্মার মরদেহের সঙ্গে আমার ভাতিজা সাজিদেরও মরদেহ পড়ে আছে।

শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা। এরই মধ্যে ১৮ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ১৮ জনের মধ্যে একজন যুবক ছাড়া বাকি সবাই নারী ও শিশু।

নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের পৈরতলা এলাকার আবু সাঈদের স্ত্রী মোমেনা বেগম (৫৫) ও ফারুক মিয়ার স্ত্রী কাজলা বেগম, দাতিয়ারা এলাকার মোবারক মিয়ার মেয়ে তাসফিয়া মিম (১২), সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের সাদেরকপুর গ্রামের মুরাদ হোসেনের ছেলে তানভীর (৮) ও চিলোকুট গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার শিশু কন্যা তাকুয়া (৮)।

এছাড়া নরসিংসার গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে সাজিম (৭), ভাটপাড়া গ্রামের ঝারু মিয়ার মেয়ে শারমিন (১৮), বিজয়গর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের জহিরুল হকের ছেলে আরিফ বিল্লাহ (২০), বেড়াগাঁও গ্রামের মৃত মালু মিয়ার স্ত্রী মঞ্জু বেগম (৬০), জজ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৭) এবং তার মেয়ে মুন্নি (১০) ও আব্দুল হাসিমের স্ত্রী কমলা বেগম (৫২), নূরপুর গ্রামের মৃত রাজ্জাক মিয়ার স্ত্রী মিনারা বেগম (৫০) নিহত হয়েছেন।

আদমপুর গ্রামের অখিল বিশ্বাসের স্ত্রী অঞ্জনী বিশ্বাস (৩০) ও পরিমল বিশ্বাসের মেয়ে তিথিবা বিশ্বাস (২) এবং ময়মনসিংহের খোকন মিয়ার স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের (৪৫), ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার রামগোয়ালপুরের শাওন মিয়ার ছেলে সাজিদ (৩), বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়ন বাদেহাড়িয়া কামাল মিয়ার শিশু মেয়ে মাহিদা আক্তার (৬), একই উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের মনিপুরের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৮)। ট্রলার ডুবিতে নিহত হয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, জেলা সদর হাসপাতালে মরদেহগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের স্বজনরা শনাক্ত করার পর হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের সময় প্রতিটি মরদেহ দাফন-কাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লইছকা বিলে এ ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম জানান, নৌকা ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশুর মরদেহ রয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। রাতে উদ্ধার কাজে কিশোরগঞ্জ থেকে ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা ডুবির ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ১০ কর্মদিবসে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরএম