তিস্তা হামার ঘুম হারাম করে দিয়েছে। হঠাৎ বন্যায় বাড়িঘর সব ভ্যাসি নিয়া গেছে। কোনো মতন জীবনটা ধরি এই বাঁধের রাস্তায় উঠছি। রাইতে চোখত ঘুম নাই। প্লাস্টিক দিয়া কোনো মতন একটা থাকার জায়গা করছি। সে খানোত রাইতে মশার কামড় খেয়ে রাইতটা কাটাই।
আকস্মিক বন্যায় সব হারিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অলিয়ার রহমান (৭৫)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারগুলো বাঁধ-সংলগ্ন রাস্তায় প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে কোনোরকমে অবস্থান করছে। রান্না করতে না পারায় কাউকে শুকনা খাবার আবার কাউকে পান্তা ভাত খেতে দেখা গেছে।
হঠাৎ ভারতের গজলডোবার সব কয়টি গেট খুলে দিলে বুধবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় তিস্তার প্রবল স্রোতে ব্যারাজ রক্ষার ফ্লাট বাইপাস ভেঙে যায়। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গৃহহীন হয়ে পড়ে পাঁচ শতাধিক পরিবার। নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি হারিয়ে পরিবারগুলো স্থানীয় বাঁধ-সংলগ্ন রাস্তায় এবং উঁচু স্থানে প্লাস্টিক পেতে ঘর করে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে একদিনের ব্যবধানে তিস্তার পানি কমে গেলেও পরিবারগুলো নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। তিস্তা পাড়ের দোয়ানি গ্রামের কুসুম আলী বলেন, নদীতে ঘরবাড়ি হারিয়ে প্লাস্টিক মুড়িয়ে বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছি। এখন কোথায় যাবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
সাজেদা খাতুন নামের একজন বলেন, প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি থেকে কিছুই আনতে পারেনি। হাঁস-মুরগি সব ভেসে গেছে। শুধু সন্তান দুইটাকে বুকে নিয়ে এই রাস্তার ওপরে এসেছি। এখন অনেক কষ্টে করছি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদীন ইসলাম বলেন, তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে ৪০ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, জেলায় পাঁচ লাখ টাকা ও ৫০ মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ আছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলছে।
রবিউল হাসান/এসআর/এএসএম