দেশজুড়ে

ছাগলনাইয়ায় ভোটারদের প্রভাবিত করায় আটক ৩

ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্রের ভেতর ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ভোটাররা জানান, ভোটগ্রহণ চলাকালে সোনাগাজী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের গোপন ব্যালট কক্ষ থেকে শাহাদাত হোসেন শিপন নামে একজন নৌকার এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। তিনি ওই কক্ষে বসে ইভিএমে ভোটারের ব্যালট বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার বাটন চাপ দিচ্ছিলেন। এছাড়া পৃথক স্থানে কেন্দ্রের ভেতর প্রভাব সৃষ্টি ও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে আরও দুই যুবককে আটক করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ছাগলনাইয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পৌরসভার ১৩টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠু করতে তিন স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সন্ধ্যায় তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের ছাগলনাইয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. মোস্তফা ও কম্পিউটার প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর মোহাম্মদ জাকের হায়দার অংশ নেন। এছাড়া পৌরসভার ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৪১জন কাউন্সিলর ও তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১১জন নারী কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কম্পিউটার প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী যুবলীগ নেতা নুর মোহাম্মদ জাকের হায়দার বলেন, সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে নৌকার প্রার্থীর এজেন্টরা গোপন কক্ষে অবস্থান নেয়। ভোটাররা তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি।

নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মো. মোস্তফা বলেন, কোনো কেন্দ্রেই কম্পিউটার প্রতীকের প্রার্থীর কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। আমি আবারও মেয়র নির্বাচিত হবো।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পৌর এলাকায় তাৎক্ষণিক বিচারিক আদালত পরিচালনার জন্য একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে ছিলেন।

নুর উল্লাহ কায়সার/এসজে/জিকেএস