দেশজুড়ে

পাবনার ডিসিকে সবজিময় শুভেচ্ছা

ব্যতিক্রমী রূপে দেখা গেলো পাবনা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সম্মেলন কক্ষ। সম্মেলন কক্ষে ডিসির সামনের টেবিলের উভয় পাশে বসে আছেন চাষিরা। তাদের সামনে সারি সারি সবজি ও ফলের ঝুড়ি। এগুলো তাদেরই ক্ষেতে উৎপাদিত সবজি ও ফল। কেউ এনেছিলেন ড্রাগন ফল, গাজর, ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আবার কেউ এনেছিলেন বারমাসি আম ও কাঁঠাল। কেউবা এনেছেন লাউ।

প্রত্যেক চাষি যে ফসল, ফল বা সবজি চাষে খ্যাতি পেয়েছেন তারা ডালা ভর্তি করে সেসব এনেছেন। অর্ধশতাধিক ডালাভর্তি ফল-সবজিতে সম্মেলন কক্ষ সাজিয়ে তোলেন চাষিরা। একটি পরিপূর্ণ কৃষিমেলা বসিয়েই যেন তারা পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেনকে শুভেচ্ছা জানান।

সোমবার (১ নভেম্বর) ব্যতিক্রমী এ দৃশ্যের দেখা মেলে পাবনা ডিসির সম্মেলন কক্ষে। সেখানে সার ও উপকরণের দাম বৃদ্ধি, মালামাল পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে তাদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন চাষিরা।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান।

চাষিদের নামের সঙ্গে তাদের ফসলের নামটি যুক্ত হয়ে গেছে এমন বেশ কিছু কৃষক সভায় উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ওরফে কুল ময়েজ, আব্দুল খালেক ওরফে বীজ খালেক, হাবিবুর রহমান ওরফে মাছ হাবিব, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক জাহিদুল ইসলাম ওরফে গাজর জাহিদ, কৃষক আব্দুল বারী ওরফে কফি বারী, আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল ওরফে লিচু কিতাব, সফল শিম চাষি বাবু ওরফে শিম বাবু প্রমুখ। জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত পাবনা-নাটোর ও সিরাজগঞ্জের আরও অনেক চাষি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চাষিরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, চাষিদের রক্ষা করতে হলে সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। এসময় করোনার প্রণোদনা চাষিরা পাচ্ছেন না বলেও জানান তারা। তারা বলেন, চাষির প্রাপ্য টাকা চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের পকেটে। কৃষকরা কাঁচামালের ট্রাক থেকে চাঁদারোধে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন। সরকার কর্তৃক রাসায়নিক সারের মূল্য নির্ধারণের পরও ব্যবসায়ীরা বস্তাপ্রতি বেশি টাকা নিচ্ছেন। কৃষকরা কৃষি বীমা ও কৃষি হিমাগারের জোর দাবি তোলেন।

বেশ কয়েকজন পেঁয়াজচাষি বলেন, মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কম থাকে। সে সময় চাষি পেটের তাগিদে দেনা পরিশোধের জন্য কম দামে পেঁয়াজ বেচে ফেলেন। মৌসুমের শেষে দাম বাড়লেও ওই সময় পর্যন্ত পেঁয়াজ পচে যায় ও ওজন কমে যায়। ফলে হিসাব করলে দেখা যায় তারা পেঁয়াজ পান মৌসুমের অর্ধেক। তাই আপাত দৃষ্টিতে দাম বাড়লেও সুফল পান না চাষিরা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদক প্রাপ্ত সফল কৃষক বেলী বেগমসহ অন্যরা বলেন, ঈশ্বরদীতে প্রচুর পরিমাণ সবজি ও লিচু উৎপাদিত হয়। এগুলো সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত হিমাগার দরকার। গাঁজর জাহিদ বলেন, ঈশ্বরদীতে যে পরিমাণ গাজর উৎপাদিত হয় তা সংরক্ষণ করা গলে দেশের বাইরে থেকে গাজর আমদানির প্রয়োজন হতো না।

জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন গভীর মনোযোগ দিয়ে চাষিদের কথা শোনেন। তিনি বলেন, কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী সরকারি নির্দেশের বাইরে সারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনে চাষিদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন বলে চাষিদের আশ্বস্ত করেন।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসআর/এমএস