দেশজুড়ে

জমি লিখে না দেওয়ায় মারধরের হুমকি, থানায় গেলেন মা

শরীয়তপুরে জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ মাকে মারধরের হুমকি ও গালাগালি করার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছেলের বিচার দাবি করে থানায় অভিযোগ করেছেন মা।

সোমবার (১ নভেম্বর) রাতে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী মায়ের নাম আমির জান বিবি (৬৮)। তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বালুচড়া গ্রামের মো. মিয়াচাঁন সরদারের স্ত্রী। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে।

বড় ছেলে রুহুল আমিন সরদারের (৪৮) বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেছেন আমির জান বিবি। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবার বাড়ির ওয়ারিশ সম্পত্তি পেয়েছেন আমির জান বিবি। ওই সম্পত্তি বড় ছেলে রুহুল আমিন লিখে নিতে চান। তিনি ওই জমিতে পাঁচতলা ভবন করতে চান। মা অসুস্থ থাকা অবস্থায় চিকিৎসার টাকা দেন রুহুল আমিন। সেই টাকাও ফেরত চান তিনি। তবে আরও ছেলেমেয়ে থাকায় ওই জমি রুহুল আমিনের নামে লিখে দিতে রাজি নন আমির জান। জমি ও চিকিৎসার টাকা না পেয়ে মাকে ফোনে গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেন রুহুল আমিন।

সোমবার (১ নভেম্বর) বিকেলে তিনটি মোটরসাইকেলে কয়েকজনকে নিয়ে মাকে মারধর করতে আসেন ছেলে। আত্মরক্ষার্থে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকেন আমির জান। পরে তার মেজ ছেলে সিরাজুল ইসলামকে জীবননাশের হুমকি দেন রুহুল আমিন। এসব ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সন্ধ্যার দিকে থানায় মামলা করেন আমির জান বিবি।

আমির জান বিবি জাগো নিউজকে বলেন, ‘যে ছেলেকে ১০ মাস ১০ দিন পেটে রাখলাম। নিজে না খেয়ে তাকে খাইয়ে বড় করলাম। সেই ছেলে আমাকে মারধর করতে চায়। আমি ছেলের বিচার চাই।’

আমির জান বিবির মেজ ছেলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মায়ের জমি একা দলিল করে নিতে চান বড় ভাই রুহুল আমিন। মা লিখে না দেওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন ও মাকে মারধর করতে চান। স্থানীয় মাস্তান দিয়ে তিনি আমার জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত রুহুল আমিন সরদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি মাকে গালাগালি করিনি ও টাকাও ফেরত চাইনি। উল্টো মা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন। আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, বৃদ্ধ আমির জান বিবি তার বড় ছেলে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. ছগির হোসেন/এসআর