পূর্বঘোষণা ছাড়াই গণপরিবহন ধর্মঘটের কারণে নোয়াখালীতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির অপেক্ষায় থেকেও ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঘরছাড়া মানুষ গাড়ির দেখা পাননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে রিকশার পাশাপাশি সীমিত আকারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।
নোয়াখালী-চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সাকের জাগো নিউজকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমাদের এ ধর্মঘট। যতদিন সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে পরিবহন নেতাদের সমন্বয় না হবে, ততদিন ধর্মঘট চলবে। তবে আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত একটা সমাধান হবে।
নোয়াখালীর মাইজদী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত নুরজাহান বেগম (৬৮) বলেন, চট্টগ্রাম পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে চোখের অপারেশনের জন্য ডাক্তারের সিরিয়াল থাকায় সকালে ঘর থেকে বের হলাম। কিন্তু পরিবহন বন্ধ থাকায় খুব ভোগান্তি হচ্ছে।
সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় সত্তোরোর্ধ্ব আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে ফ্লাইটে তার ছেলের বিদেশ যাওয়ার কথা রয়েছে। এখন বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন। মাইক্রোবাসে যেতে চাচ্ছেন। কিন্তু তারা ছয় হাজার টাকা ভাড়া চাচ্ছেন দশ হাজার টাকা।
এরআগে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে সারাদেশে পূর্বঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় মালিক-শ্রমিকরা।
বুধবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। যা কার্যকর হয় ওইদিন রাত ১২টা থেকে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এমকেআর/জিকেএস