বিভাজনের কারণে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিলগালা করা হয় ফেনী প্রেস ক্লাব। অবশেষে দীর্ঘ ছয় বছর পর খোলা হয় সাংবাদিকদের আপন ঠিকানাটি।
সোমবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ফেনী প্রেস ক্লাবের স্ব-ঘোষিত চারটি কমিটির নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে ক্লাবের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সাংবাদিকরা ফেনী মুক্তদিবস উপলক্ষে শহরের জেল রোড়স্থ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
দুপুরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়ের পর ক্লাবটি পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসগর আলী। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সাংবাদিকদের আপন ঠিকানাটি ফিরে পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
এর আগে, প্রেসক্লাব খোলার আগে স্ব-ঘোষিত চারটি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিজ নিজ কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ক্লাবের গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সবাই ঐক্যমত্য পোষণ করেন।
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবু তাহের বলেন, অর্ধযুগ পর্যন্ত ফেনী প্রেস ক্লাব তালাবদ্ধ থাকায় সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্যের গভীরতা বেড়ে যায়। সাংবাদিকদের রিক্রিয়েশনের এ জায়টি বন্ধ থাকায় স্ব-ঘোষিত চারটি কমিটি হওয়ায় জেলায় সুশীল ব্যক্তিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সব কমিটি একমত হয়ে ক্লাবটি খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির নব-নির্বাচিত সভাপতি ও সুজন’র ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা জেলার সব সাংবাদিকরা চাই প্রাচীন এ সাংবাদিক সংগঠনটিতে প্রাণ ফিরে আসুক। বিভেদ ভুলে সাংবাদিকরা এক ছাদের নিচে গল্পে মেতে উঠুক। প্রেসক্লাবে সাংবাদিকরা ফেরায় ফেনী সাংবাদিকতা নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করবে। পেশাগত সাংবাদিকদের অনৈক্যের কারণে অপেশাদাররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আশা করব সে অবস্থার অবশান ঘটবে।
এর আগে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের কারণে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রেস ক্লাবটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। নুর উল্লাহ কায়সার/এসজে/এএসএম