দেশজুড়ে

স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ

ফরিদপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। অপরদিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর দাবি, এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গার বানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট চাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ওবায়দুর রহমান (৩২) ও বক্কার শেখ (৫৫) নামে দুজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। তারা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী বলে জানা গেছে। সারাদিন আটকের পর রাতে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বানা ইউপিতে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী (চশমা প্রতীক) হিসেবে নির্বাচন করছেন ইউনিয়ন কৃষক লীগ নেতা শরীফ হারুন অর রশিদ। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. আশরাফুজ্জামান মিয়া।

এ ব্যাপারে দিঘলবানা গ্রামের নৌকা প্রতীকের সমর্থক ইলিয়াস শেখ বলেন, আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা করছিলেন। এসময় তারা জনপ্রতি নগদ ৫০০ টাকা করে দিয়ে চশমা প্রতীকে ভোট চান। আমাকেও এভাবে টাকা দিতে আসলে তাদের টাকা না নিয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশে খবর দেই।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শরীফ হারুন অর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। নৌকা মার্কার প্রার্থী পরাজয়ের সুর শুনতে পেয়ে বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি ও মারধর করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমার দুই কর্মী তারা মুদি দোকানদার। বেড়িরহাট বাজারে দোকানের জিনিস কিনতে যাওয়ার পথে আকতার মোল্লার বাড়িতে নির্বাচনী আলাপ করছিলেন তারা। এসময় তাদের ধরে নৌকার প্রার্থী ঝিল্লু ঘরের ভেতর আটকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনার পর আকতার মোল্লা নিজে বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে নৌকার প্রার্থী মো. আশরাফুজ্জামান মিয়া ঝিল্লুর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। যেহেতু বিষয়টি আচরণবিধি সংক্রান্ত এ কারণে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের নিকট তাদের হস্তান্তর করা হয়। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। এ ঘটনায় দুইটি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানান ওসি।

উপজেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং অফিসার শামীম আহমাদ জাগো নিউজকে বলেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুচলেকা দিয়ে আটক দুইজনকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা মিললে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

এন কে বি নয়ন/জেডএইচ/এএসএম