দেশজুড়ে

ভুরুঙ্গামারীতে সাব-রেজিস্ট্রারের অভাবে বেকায়দায় সেবাপ্রার্থীরা

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় দুই বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য পড়ে আছে। খণ্ডকালীন দায়িত্ব (সপ্তাহে দুদিন) পাওয়া সাব-রেজিস্ট্রারও বিভিন্ন অজুহাতে অফিসে বসেন না নিয়মিত। এতে থেমে আছে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কার্যক্রম। ফলে জরুরি প্রয়োজনে জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

ভুরুঙ্গামারী সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দুবছর ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পাওয়া সাব-রেজিস্ট্রার আসলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নিয়মিত অফিস করেন না। এ অফিসে সর্বশেষ খণ্ডকালীন দায়িত্ব পাওয়া সাব-রেজিস্ট্রার প্রফুল্ল কুমার গত দুই মাসে অফিস করেছেন মাত্র চার দিন। তবে জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিয়ে তিনি এখন আসাই বন্ধ করে দিয়েছেন।

এভাবে কর্মকর্তার অভাবে মাসের পর মাস ধরে একটা সরকারি অফিস অকার্যকর হয়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকের জরুরি চিকিৎসা, বিদেশ গমন, বিয়ে, জমির জাবেদা নকল উত্তোলন আটকে আছে। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও জমি বিক্রি করতে না পেরে মহাজনদের কাছে চড়া সুদে ঋণ নিতেও বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

চরভুরুঙ্গামারী থেকে জমি কিনতে আসা শফিউদ্দিন বলেন, আমি এক খণ্ড জমি কিনেছি। দলিলও লেখা শেষ প্রায় তিন মাস আগে। টাকাও পরিশোধ করেছি বিক্রেতাকে। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের অভাবে দলিল নিজের করতে পারছি না। মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। ভূরুঙ্গামারী আসছি আর ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহই জানে কবে এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ মিলবে।

ভুরুঙ্গামারী দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শখ করে কেউ জমি বিক্রি করে না। গত দুমাসে সাব-রেজিস্ট্রারের অপেক্ষায় জমা পড়ে আছে প্রায় ৯০০ দলিল। এ সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একজন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের জন্য বারবার আবেদন করেও ফল হচ্ছে না। জন ভোগান্তি বিবেচনায় দ্রুততার সঙ্গে একজন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ জরুরি।

খণ্ডকালীন দায়িত্ব পাওয়া সাব-রেজিস্টার প্রফুল্ল কুমার বলেন, ১ ডিসেম্বর আমি জেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে খণ্ডকালীন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি। তার অনুমতি নিয়েই এখন আমি ওই অফিসে যাই না।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সাব-রেজিস্টার খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ জাগো নিউজকে বলেন, গোটা জেলার জন্য সাব-রেজিস্ট্রার আছেন মাত্র চারজন। তা দিয়েই ৯টি উপজেলা চালাচ্ছি। তবে অবস্থা বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ভুরুঙ্গামারীতে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হবে।

মাসুদ রানা/এসজে/জেআইএম