ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর মানাইর ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. বজলু মাতুব্বর পেয়েছেন মাত্র ৫৬ ভোট। এ ইউনিয়নের ১১ প্রার্থীর মধ্যে তিনি হয়েছেন সপ্তম। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী কোনো সময়ে ফরিদপুরের ৯ উপজেলায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থীর লজ্জাজনক এমন হারের ঘটনা ঘটেনি। শুধু তাই নয় এ ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও দুই শতাধিক ভোট পেয়েছেন।
প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির থাকার পরও কী কারণে নৌকার প্রার্থী এতো কম ভোট পেলেন তা খতিয়ে দেখবে জেলা ও উপজেলার নেতারা। এ ইউনিয়নে চশমা প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. রফিকুল ইসলাম।
নৌকার পরাজিত প্রার্থী বজলু মাতুব্বর জাগো নিউজকে বলেন, ‘নৌকা প্রতীক পেলেও তার পক্ষে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া তো দূরে থাক খোঁজও নেননি। আওয়ামী লীগের নেতারা কাজ করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে। প্রতীকটার কথাও কেউ ভাবেননি।’
এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছত্তার ফকির জাগো নিউজকে বলেন, ‘মনোনয়নের বিষয়ে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তাছাড়া তিনি মনোনয়ন পাওয়া আগে ও পরে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেননি। সুতরাং এটা প্রতীকের পরাজয় না প্রার্থীর পরাজয়।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জনগণ যদি ভোট না দেয় তাহলে কী করার। তাছাড়া এটা নৌকা মার্কার কোনো পরাজয় না। এটা প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরাজয়। প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ না থাকলে বা প্রার্থীর কোনো সমস্যার কারণে মানুষ ভোট না দিলে কী করার আছে। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, বুধবার (৫ জানুয়ারি) পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ফরিদপুরের সদরপুর ও মধুখালী উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আটজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নৌকা প্রতীকের পাঁচ প্রার্থী বিজয়ী হন।
এন কে বি নয়ন/আরএইচ/জিকেএস