মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী নাটেশ্বর বৌদ্ধবিহারে নবম ধাপে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কাজ শুরু হয়েছে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন সংগঠনের উদ্যোগে ‘বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খনন কর্মসূচি ২০২১-২১’ এর আওতায় শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে খনন কাজের উদ্ধোধন করা হয়।
নতুন করে খনন কাজে বিহারটির মাটির নিচ থেকে আগের মতো বহু প্রাচীন ও বৌদ্ধ নিদর্শন উদ্ধার করা যাবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। এতে প্রাচীন ইতিহাস আরও সমৃদ্ধভাবে উন্মোচন হবে।
উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক নূহ-উল-আলম লেনিনের সভাপতিত্বে ও গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্রী রতন চন্দ্র পণ্ডিত, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা তানজিন অন্তরা প্রমুখ। পরে রঘুরামপুর বৌদ্ধ বিহারে ভোজনালয় উদ্বোধন ও ঘুরে দেখেন অতিথিরা।
নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, বিগত খননে অনেক দুষ্প্রাপ্য প্রত্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। আশা করা যাচ্ছে এবারের খননেও প্রত্ন নিদর্শন পাওয়া যাবে। যদি তাই হয় তাহলে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুগ হবে। এ খননের মূল উদ্দেশ্য হলো বাঙালিজাতির শিকড় সন্ধান। এতে যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যাবে তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৃথিবীর কাছে তুলে ধরা। আগামী তিনবছর নাটেশ্বরে খনন কাজ করা হবে।
পরিদর্শন শেষে সচিব মো. আবুল মনসুর বলেন, আমি বিস্মিত এই প্রত্ন নিদর্শন দেখে। ভবিষ্যতে আমরা নাটেশ্বরে প্রত্ন সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা থাকবে।
২০১৩ সাল থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ‘ঐতিহ্য অন্বেষণ’ নাটেশ্বরের দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কাজ শুরু করে। প্রায় ১০ একর ঢিবিতে উৎখনন চলে এপর্যন্ত। এতে ইট-নির্মিত একাধিক বৌদ্ধ মন্দির, অষ্টকোণাকৃতির স্তূপ, রাস্তা, বিভিন্ন পরিমাপের ও কাজের কক্ষ, স্থাপত্যিকসহ ১ হাজার থেকে ১২শত বছরের প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়।
আরাফাত রায়হান সাকিব/এসজে/এএসএম