দোয়া নিজেই ইবাদত, বরং হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে। দোয়া কবুলের আমল জানার মাধ্যমে একজন মুসলিম সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারেন। ইসলামে এমন কিছু নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও নেক আমল রয়েছে,যেগুলো দোয়া কবুলের বিশেষ ওসিলা হিসেবে কাজ করে। তাহলে দোয়া কবুলের আমল কী কী এবং কোন নেক আমলগুলো দোয়া কবুলের জন্য সবচেয়ে কার্যকর?
অনেকেই দোয়া কবুল হওয়ার জন্য অনেক আমল করেন। অনেক সময় ভুল পদ্ধতি অবলম্বনের কারণে দোয়া কবুল হওয়ার বিপরীতে তা গুনাহের কাজে পরিণত হয়। তাই দোয়া কবুলের জন্য কিছু নেক আমলকে ওসিলা হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
দোয়া কবুলের জন্য বিশুদ্ধ হাদিস সম্মত আমল ১. কোরআন থেকে যে কোনো অংশ তেলাওয়াত করে দোয়া করা। দোয়া কবুলের নিয়েতে নির্ধারিত কোনো সুরা, আয়াত বা কোরআনের কোনো অংশ তেলাওয়াত করার প্রয়োজনীয়তা নেই। ২. দিন-রাতে অবসর সময় পেলে নফল নামাজ পড়ে দোয়া করা। ৩. রোজা রেখে দোয়া করা। ৪. ইফতারের আগে ইফতারি সামনে রেখে দোয়া করা। ৫. আল্লাহর জন্য দান-সদকাসহ ইত্যাদি নেক আমল করার পর এ সব নেক আমলের ওসিলা ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। যেভাবে দোয়া করতে হবেএসব নেক আমলের ওসিলায় দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন- দোয়া কবুল হওয়ার জন্য এভাবে বলা-
‘হে আল্লাহ! আমার কোরআন খতম, কোরআন তেলাওয়াত, নফল কিংবা ফরজ নামাজ, রোজা, ইফতার, সাহরি এবং দান-সাদকার ওসিলায় আমার দোয়া কবুল করুন। আমার সব সমস্যা ও প্রয়োজন পূরণ করে দিন। আমাকে সুস্থতা দান করুন। যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন ইত্যাদি।’
এছাড়াও দোয়ার শর্তাবলী ঠিক রেখে দোয়া কবুল হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় সময় ও ক্ষেত্রগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে দোয়া করা। যেমন-
১. ভোর রাতে দোয়া করা। ২. যে কোনো নামাজের সেজদায় দোয়া করা। ৩. রোজা অবস্থায় দোয়া করা। ৪. ইফতারের আগ মুহূর্তে ইফতারি সামনে নিয়ে দোয়া করা। ৫. সফর অবস্থায় দোয়া করা। ৬. আজান ও ইকামতের মাঝামাঝি সময়ে দোয়া করা। ৭. জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিবের মাঝামাঝি সময়ে দোয়া করা।এভাবে নিজ বাবা-মা ও নেককার-পরহেজগার ব্যক্তিদের কাছে দোয়া চাওয়া। আশা করা যায়, মহান আল্লাহ এসব পদ্ধতি ও ওসিলা গ্রহণকারীর সব হালাল ও বৈধ দোয়া কবুল করবেন। ইন শা আল্লাহ।
আরও পড়ুন
যে দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন নাআল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত উপায় ও পদ্ধতি অনুসরণ ও অনুকরণ করে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এমএমএস/এএসএম