দেশজুড়ে

‘নির্বাচনই কাল হলো আমার ছেলের’

যশোরের অভয়নগরে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য উত্তম সরকার (৩০) হত্যাকাণ্ডে এখনো মামলা হয়নি।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারী আটকে কাজ করছে।

সুন্দলী ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামে নিহত উত্তম সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করছেন। টিনের চাল দেওয়া বাড়ির বারান্দায় বসে নিহতের মা, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান কাঁদছে। গ্রামবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ সময় নিহতের মা শেফালী সরকার বলেন, ‘নির্বাচন করাই আমার ছেলের কাল হয়েছে। বুকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। এখন উত্তমের দুই শিশুর কী হবে?

নিহতের স্ত্রী শ্রাবন্তি সরকার বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। খুনের পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে সুন্দলী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল জাগো নিউজকে বলেন, এভাবে একজন নির্বাচিত মেম্বারকে বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা ইউনিয়নের জন্য অশুভলক্ষণ। ঘটনার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে। অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ না করায় মামলা হয়নি। তবে পুলিশের একাধিক টিম হত্যার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারী আটকে কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার রাত ৮টার দিকে সুন্দলী ইউনিয়নের হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন উত্তম সরকার। ২৬ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে সুন্দলী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

মিলন রহমান/এসজে/এএসএম