ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন ২৮ ইঞ্চি উচ্চতার মোশাররফ হোসেন মশু। ভ্যানগাড়ি প্রতীক নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ছুটছেন।
মোশাররফ হোসেন মশু ওই এলাকার বাগভাণ্ডার কদমতলা গ্রামের হরমুজ আলী ও চায়না দম্পতির সন্তান। নির্বাচনে তার বিপরীতে আরও পাঁচ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মশুর বাবা জীবিত থাকলেও তিনি কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মশুর আট বছর বয়সেই মা চায়না খাতুন মারা যান। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোশাররফ হোসেন মশু দ্বিতীয়। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ২৬ বছর। ২৮ ইঞ্চির মশুর ওজন ৩৮ কেজি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও দরিদ্রতার কারণে আর পড়ালেখা করতে পারেনি। তার ইচ্ছা জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করবেন।
স্থানীয়রা জানান, আর্থিক সংকট থাকায় ভোটাররাই ব্যানার-পোস্টার করে তার পক্ষে গণসংযোগ করছেন। তাদের আশা ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হবেন মশু।
স্থানীয় ভোটার আমিনুর রহমান বলেন, ‘এখানে সবাই মশুর কথা বলছেন। ভোটে জিতবে কী জিতবে না সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু সে সাহস করে ভোট করছেন এতেই আশ্চর্য হচ্ছে মানুষ।’
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আমজাদ বলেন, ‘খুব সরল মানুষ মশু। ওর ভোটে দাঁড়ানো দেখে আমরাই অবাক। ছোট ছেলেটা তার সমর্থকদের নিয়ে পায়ে হেঁটেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।’
একই এলাকার আজম আলী জানান, ‘শরীরে সমস্যা আছে কিন্তু যে কোনো কাজে তিনি পরিশ্রমী। আমরা চাই মশু বিজয়ী হোক।’
স্কুলশিক্ষক সুলতানা পারভীন বলেন, ‘মানুষের ধারণা বদলানো দরকার। প্রতিবন্ধী যে সমাজের বোঝা নয় তা করে দেখাচ্ছে মশু। মনের ইচ্ছাই বড় ইচ্ছা, সেটা তিনি ভোটের মাঠে দেখাচ্ছেন।’
এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন মশু বলেন, ‘আমার সরলতা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকই ভালোবাসেন। আমি গরীব মানুষ। বিগত দিনগুলোতে আমাদের মত গরীব মানুষরা হক ঠিকমত বুঝে পাইনি। সেই হক বুঝে পেতেই আমার নির্বাচন করা। আমার টাকা নেই। ভোটারাই টাকা খরচ করে আমার নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি আমি বিজয়ী হব।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মশু শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও নির্বাচনে তার আইনগত কোনো বাধা নেই।’
মাসুদ রানা/আরএইচ/এএসএম