দেশজুড়ে

দিনাজপুরে জামানত হারাচ্ছেন ২১ চেয়ারম্যান প্রার্থী

ষষ্ঠ দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দিনাজপুর সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২১ পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তারা জামানত হারাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা নির্বাচনী ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে ৩১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত হওয়া ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

যে ৯টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হয়েছে সেগুলোতে ৪৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এদের মধ্যে ২১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে ফজল বলেন, কোনো প্রার্থী যদি ওই ইউনিয়নের মোট প্রদও ভোটের ৮ শতাংশ ভোট না পান তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তার জামানতের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। তবে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার অর্থ খুব বেশি নয়, মাত্র ৫ হাজার টাকা।

২নং সুন্দরবন ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১৯ হাজার ৩৯৮। সে হিসাবে একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ২ হাজার ৪২৪ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী খুরশীদ আলম মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৫৯৮ এবং মো. রবিউল ইসলাম অটোরিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ১১০ ভোট। তারা দুজনই জামানত হারাবেন।

৪নং শেখপুরা ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ২০ হাজার ৩। সে হিসাব অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ২ হাজার ৫০০ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী জুলফিকার আলী মোটরসাইকেল প্রতীকে ৯৮৬ এবং মো. ওমর ফারুক তালুকদার অটোরিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ১২৩ ভোট। তারা দুজনই জামানত হারাবেন।

৫নং শশরা ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১৬ হাজার ৩৯৪। সে হিসোব অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ২ হাজার ৪৯ ভোট পেতে হবে। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনুল হক আনারস প্রতীকে ১ হাজার ৮৬, মো. রবিউল ইসলাম চশমা প্রতীকে ১ হাজার ৩৬৬, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিজানুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৫৪৯ এবং শ্রী নির্মল চন্দ্র রায় ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১০৮ ভোট। তারা চারজনই জামানত হারাবেন।

৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ২৭ হাজার ৯৬০। সে হিসাব অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ৩ হাজার ৪৯৫ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান মোটরসাইকেল প্রতীকে ২ হাজার ৩৬১, মো. আব্দুর রাজ্জাক চশমা প্রতীকে ২ হাজার ৫৩১, মো. মোকছেদুর রহমান টেলিফোন প্রতীকে ২১৪ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মজিবর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১৪৭ ভোট। তারা চারজনই জামানত হারাবেন।

৭নং উথরাইল ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১৫ হাজার ৮৫৯। সে হিসাব অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ১ হাজার ৯৮২ ভোট পেতে হবে। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রৌফ আনারস প্রতীকে ১১৩, মো. জহুরুল হক টেলিফোন প্রতীকে ১৭১, মো. নাজমুল ইসলাম নাজু অটোরিকশা প্রতীকে ১ হাজার ৭০২ ও মো. মাজেদার রহমান ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৫৮ ভোট। তারা চারজনই জামানত হারাবেন।

৮নং শংকারপুর ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১৫ হাজার ৩৩৪। সে হিসাব অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ১ হাজার ৯১৬ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুল আলম চশমা প্রতীকে ১ হাজার ৫০৮, মো. আব্দুর রশিদ শাহ অটোরিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৭ ভোট। তারা দুজনই জামানত হারাবেন।

৯নং আস্করপুর ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১৪ হাজার ৪০০। সে হিসাব অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ১ হাজার ৮০০ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. কামরুন নাহার চশমা প্রতীকে ৫৬২, মো খায়রুল ইসলাম অটোরিশা প্রতীকে পেয়েছেন ২২৩ ভোট। তারা দুজনই জামানত হারাবেন।

এছাড়া ১০নং কমলপুর ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১৩ হাজার ৬৮৪। সে হিসাব অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে ১ হাজার ৭১০ ভোট পেতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বদিউজ্জামান ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫৬ ভোট। তিনি জামানত হারাবেন।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এএসএম