দেশজুড়ে

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই কুয়াকাটায় পর্যটকের ভিড়

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখে বিমোহিত পর্যটকরা। তবে নতুন করে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ায় এবং সরকারের বিধিনিষেধ আরোপের কারণে জানুয়ারি মাসের শেষের দু’সপ্তাহ তেমন পর্যটক না থাকলেও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ছুটিরদিনেই অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটায়।

শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) সৈকতের কয়েকটি পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকরা সমুদ্র তীরে আঁছড়ে পড়া ঢেউয়ে গোসলে মেতেছেন। আবার কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে ছাতার নিচে বসে সমুদ্রের রূপ দর্শনে মগ্ন। তবে বার বার পুলিশ মাইকিং করে মাস্ক পরতে বললেও অনেকেরই রয়েছে উদাসীনতা।

পরিবার নিয়ে গোসলে আর আনন্দে মেতেছেন পর্যটক মনি ইয়াসমিন। তিনি জানান, কয়েক বছর পর কুয়াকাটায় আসলাম। এখন রাস্তাঘাট সুন্দর, ভিআইপি হোটেল, পরিবেশটা ভালোই লাগছে। পরিবার নিয়ে হৈ হুল্লড়ে সময় কাটাচ্ছি।

সাইদুর রহমান বলেন, ছোট ছেলেকে নিয়ে কুয়াকাটায় আসলাম। বাচ্চাটা বালু নিয়ে দুষ্টুমি করছে, শীত মৌসুমে মূলত তেমন ঢেউ দেখা যায় না, কিন্তু আজ বেশ অনেক ঢেউ উপভোগ করছি।

কুয়াকাটা বোট মালিক সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর জাগো নিউজকে জানান, গত দুই-তিন সপ্তাহে বিশেষ করে শুক্রবারও তেমন পর্যটক পাননি তারা। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শুরুতে বেশ পর্যটকের আগমন ঘটছে। আসা করছি পুরো মাসজুড়ে পর্যটক থাকবে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জাগো নিউজকে জানান, পর্যটন মৌসুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস হলো ফেব্রুয়ারি। তবে জানুয়ারি মাসেও পর্যটক থাকে। এ বছর করোনা মহামারির কারনে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। তবে আজ থেকে সেটা কাটতে শুরু করছে। আমাদের ট্যুর অপারেটরদের কাছেও অনেকগুলো বুকিং রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের কয়েকটি বড় বুকিংও পেয়েছি আমরা।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোন পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ জাগো নিউজকে জানান, গত বেশ কয়েকদিন তুলনামূলক কুয়াকাটায় পর্যটক কম ছিল। আজ সৈকতে চোখে পড়ার মতো পর্যটক। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশের কয়েকটি টিম বিশেষ করে গঙ্গামতি, লেম্বুরবন, ঝাউবনসহ সবগুলো পয়েন্টে কাজ করছে। সঙ্গে সাদা পোশাকেও একটি টিম কাজ করছে। আমরা সার্বক্ষণিক মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাইকিং ও সচেতনামূলক প্রচারণা চলমান রাখছি।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ/এমএস