দেশজুড়ে

শ্রীপুরে ওএমএসের পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) আওতায় খোলাবাজারে চাল বিক্রিতে ওজনে কম দেওয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলাউদ্দিন নামের এক ডিলারের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কয়েকজন ভুক্তভোগী এমন অভিযোগ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজনকে ওজনে কম দেওয়া চাল পূর্ণ করলেও অতিরিক্ত নেওয়া টাকা ফেরত দেননি সংশ্লিষ্ট ডিলার।

শ্রীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের মতো গাজীপুরের শ্রীপুরে ১০ জন ডিলার ২০টি পয়েন্টে ট্রাকের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল ৩০ টাকা ও আটা ১৮ টাকা দরে বিক্রি করে আসছেন। কিন্তু কার্যক্রম চলমান থাকলেও কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুফলভোগের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

কেওয়া চন্নাপাড়া এলাকার কারখানা শ্রমিক খোরশেদ আলম। চাল দেওয়ার খবরে সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় দেখেন প্রত্যেকেই ১ হাজার টাকা করে জমা দিয়ে ৩০ কেজি করে চাল নিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও সে টাকা দিয়ে ৩০ কেজি চাল নেন। পরে মেপে দেখেন দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৬ কেজি। হিসাব করে দেখেন তার কাছ থেকে রাখা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৮ টাকা ৪৬ পয়সা।

অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তাকে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট ডিলার। যদিও পরে আরও চার কেজি চাল দিয়ে ৩০ কেজি পূর্ণ করা হয়। তবে অতিরিক্ত নেওয়া ১০০ টাকা ফেরত দেননি।

কেওয়া পশ্চিমখন্ড গ্রামের নুরুল আলম একজন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক। তিনি গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে ৩০ কেজি চাল কিনেন। তার মতো আরও বেশ কয়েকজন ভিক্ষুক অতিরিক্ত দাম দিয়ে চাল কিনেন। প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ডিলার আলাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের যে বস্তা দেওয়া হয় তাতেই চাল কম দেওয়া থাকে। তবে ওজনে কম দেওয়ার ভুল আমাদের আর হবে না। আর অতিরিক্ত টাকাও আমরা আর নিবো না। বিষয়টি ভুল হয়েছে, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ।

শ্রীপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কাজী হামিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের অফিসের কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত, এরপরও আমরা নজরদারি করছি। সারাদিন তো আর ডিলারদের সঙ্গে থেকে নজরদারি করা যায় না। তবে অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে সচেতন করা হয়েছে। এরপরও যদি এমন অভিযোগ আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফয়সাল আহমেদ/এসজে/জেআইএম