আইন-আদালত

যুবককে অ্যাসিড নিক্ষেপ: স্বামীর যাবজ্জীবন, স্ত্রীকে খালাস

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকায় তমাল চন্দ্র দে (৩০) নামের এক যুবককে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সুমিত ধরকে (৩৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও একবছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই রায়ে আদালত সুমিতের স্ত্রী মমিতা দত্ত এনিকে খালাস দেন।

রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় দণ্ড পাওয়া ও খালাস পাওয়া কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

ভুক্তভোগী তমালের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায়। তিনি বাবা-মার সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলার সিইউএফএল কারখানা এলাকায় থাকতেন। দণ্ড পাওয়া সুমিতের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায়। রায়ে খালাস পাওয়া স্ত্রী এনিকে নিয়ে তিনি চান্দগাঁও থানা এলাকায় থাকতেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্ক ছিল এনি ও ভুক্তভোগী তমালের মধ্যে। ফেসবুকে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি এনির স্বামী সুমিত। অন্যদিকে এনিও বিয়ের কথা গোপন করে প্রেম চালিয়ে যেতে থাকেন। একদিন এনি ফোন করে তমালকে চট্টগ্রাম শহরে দেখা করতে বলেন।

পরদিন ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তমাল নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকায় দেখা করতে আসেন। সেখানে আগে থেকে অ্যাসিড নিয়ে ওঁৎ পেতে ছিলেন সুমিত। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তমালের চোখে মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন সুমিত। এতে ঝলসে যায় তমালের মুখ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাবুল চন্দ্র দে বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় অ্যাসিড দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় সুমিত ও তার স্ত্রী এনিকে। পরে মামলাটি তদন্ত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান দুজনই। এসময় দুজন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। সার্বিক তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ। আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য দেন ২৪ জন। যাবতীয় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ (রোববার) আদালত রায় ঘোষণা করেন।

তবে রায় ঘোষণার পর আদালতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী তমাল ও তার পরিবারের সদস্যরা।

আদালত প্রাঙ্গণে তারা বলেন, ‘আসামি নিজে এই মামলায় জড়িত বলে সাক্ষী দিয়েছেন। এরপরও অর্থের বিনিময়ে তারা জামিন নিয়েছেন। আবার এখন একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এগুলো সব টাকার খেলা।’

এক আসামিকে খালাস দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ নোমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হলে বিস্তারিত জানতে পারবো। তবে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় এনির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাই তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি সুমিতের বিরুদ্ধে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনের পাঁচ ধারায় অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাদী ক্ষুব্ধ হলে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন।

মিজানুর রহমান/একেআর/জিকেএস