দেশজুড়ে

শ্রমজীবী নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেফতার

বগুড়া শহরের হরিগাড়ী এলাকায় শ্রমজীবী একজন বিধবা নারীকে (২৬) দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।

এ ঘটনায় সোমবার (১৪ মার্চ) দিনভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাতেই এদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শাহীনুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই নারী বগুড়া শহরের হরিগাড়ী এলাকার একটি জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। তার স্বামী আড়াই বছর আগে মারা গেছেন। তার ছয় বছর ও সাড়ে তিন বছর বয়সী দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। আসামিরাও একই জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। শুক্রবার (১১ মার্চ) রাতে মিলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। পরে শ্রমিকদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠান শেষ করে জুট মিলের কোয়ার্টারে ফিরছিলেন ওই নারী। পথে তার একটি বাটন মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে তিনি সেখানে খুঁজতে থাকেন। তখন ওই মিলের শ্রমিক মোহন (২০) তাকে জানান, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল কে পেয়েছে তা তিনি জানেন। সেটি খুঁজে দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে যেতে বলেন।

মোহন ওই নারীকে জুট মিলের পাশে একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আরও চারজন কিশোর আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। কিশোরদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছর। ঘটনাস্থলে ওই নারীকে নিয়ে গেলে তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাঁচজন মিলে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাস্থলের পাশ দিলে মিলের অন্যান্য শ্রমিকরা আসার শব্দ শুনে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা ওই নারীকে ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি গোপনে জানতে পারে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। ঘটনার দুদিন পর অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ও মামলার বাদী শাহীনুজ্জামান বলেন, মামলায় মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মোহন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি চার আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এসআর/এএসএম