দেশজুড়ে

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে বিয়ের পর পালিয়ে যাওয়া সেই যুবক গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী ও চার সন্তান থাকার পরও প্রতারণার মাধ্যমে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে বিয়ের পর পালিয়ে যাওয়া রফিক মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) ভোরে তাকে নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের ভান্ডুসার গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রফিক ওই এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার আদালতে মামলা করলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। পরে অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে রফিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রতারণার শিকার ওই প্রতিবন্ধীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ পৈরতলার এক দিনমজুরের বাড়িতে রফিক মিয়া আশ্রয় চান। তখন তিনি জানিয়েছিল তার বাড়ি ময়মনসিংহ, তিনি এতিম এবং তার কেউ নেই। অসহায় ভেবে সরল প্রকৃতির সেই দিনমজুর রফিককে আশ্রয় দেন।

এক পর্যায়ে রফিক নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে দিনমজুরের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে সেই দিনমজুর সাড়া দিয়ে তার মেয়েকে রফিকের কাছে বিয়ে দেন এবং তাদের সংসার চালাতে ঋণ করে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেন। এরকিছু দিন পর জানতে পারেন জেলার নবীনগরে রফিকের মা-বাবা, ভাই-বোন সবই রয়েছে। শুধু তা-ই নয় রফিকের স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তানও রয়েছে।

বিষয়টি প্রতারক রফিক সবার কাছে স্বীকার করেন। তার পরিবারকে খবর দিলে মা ও ভাই দিনমজুরের পরিবারকে এসে আশ্বস্ত করেন, তার মেয়েকে সসম্মানে বাড়িতে নিয়ে যাবেন। এ সময় তারা রফিককে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর আর প্রতারক রফিকের কোনো সন্ধান  পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় দিনমজুরের পরিবার আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআইকে) তদন্তের দায়িত্ব দিলে ঘটনার সত্যতা পায়। এ ঘটনায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে বৃগস্পতিবার রফিককে গ্রেফতার করে নবীনগর থানা পুলিশ।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জিকেএস