দেশজুড়ে

সেই পুলিশ সুপারকে ‘দক্ষ কর্মকর্তা’ বললেন কাদের মির্জা

বক্তব্য বিবৃতিতে ‘কুলাঙ্গার ও শ্রেষ্ঠ চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করা নোয়াখালীর সেই পুলিশ সুপারকে দক্ষ কর্মকর্তা বলে সম্বোধন করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

রোববার (২৪ এপ্রিল) কোম্পানীগঞ্জ থানা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সম্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম।

কাদের মির্জা বলেন, কোম্পানীগঞ্জে গত দেড় বছরে যে সন্ত্রাস নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল তা শক্ত হাতে দক্ষতার সঙ্গে দমন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছেন শ্রদ্ধেয় পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম।

এ সময় এসপি শহীদুল ইসলাম বলেন, মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতা- নোয়াখালীতে এ শ্লোগানকে সার্থক করতে সক্ষম হয়েছি। এ এলাকাকে শান্তির জনপদ হিসেবে ধরে রাখতে হলে পুলিশ, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতি, জনগণ একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) দীপক জ্যোতি খীসা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন সোহাগ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ পেশাজীবী লোকজনকে দেখা গেলেও মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বিরোধী আওয়ামী লীগ নেতাদের দেখা যায়নি।

এদিকে থানার ইফতার মাহফিলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা উপস্থিত থাকবেন এমন খবর পেয়ে তার বিরোধী পক্ষের লোকজনকে দাওয়াত দিয়েও থানার পক্ষ থেকে টেলিফোন করে আসতে নিষেধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল অভিযোগ করে বলেন, দুই-তিন দিন আগে আমাকে থানার পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ইফতার মাহফিলের দাওয়াত দেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমান আমাকে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার অনুরোধ জানান।

একই অভিযোগ করেন ৫ নম্বর চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জায়েদল হক কচি। তিনি বলেন, চিঠি দিয়ে দাওয়াত দিয়েও অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। 

তবে ইফতারে না আসতে বলার বিষয়ে জানতে চাইলে থানার পরিদর্শক এস এম মিজানুর রহমান কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

বিগত দেড় বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিজ এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে দলের দুপক্ষের সংঘাত-সহিংসতা লেগেই আছে। এতে একজন সাংবাদিকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মামলা হয়েছে ৬০টিরও বেশি।

এদের একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং অপর পক্ষে ওবায়দুল কাদেরের তিন ভাগনেকে নিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/জিকেএস