ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বয়স্কভাতার বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষ বরাদ্দের এ ভাতা ফরিদপুরের চারটি উপজেলার সব ইউনিয়ন পেয়েছে। তবে বোয়ালমারী উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে একটি মাত্র ইউনিয়ন এ বরাদ্দ পেয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাকি ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ভাতাভোগীরা।
গত ২৬ এপ্রিল সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম সই করা এক স্মারক পত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বয়স্কভাতা কর্মসূচির আওতায় মন্ত্রণালয় থেকে কিছু সংখ্যক ইউনিটে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনের মধুখালী উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, আলফাডাঙ্গা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বরাদ্দ পেয়েছে। তবে বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধু সাতৈর ইউনিয়ন বরাদ্দ পেয়েছে। এ উপজেলার প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন ভাতা বরাদ্দ থেকে বাদ পড়েছে। বরাদ্দ পাওয়া অপর উপজেলা হচ্ছে পাশের নগরকান্দা। সেখানেও ছয় ইউনিয়নে ভাগ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ৩০০ করে মোট ৯০০ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলা ২৩০টি কার্ড বরাদ্দ পেয়েছে। মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার সব ইউনিয়ন বরাদ্দ পেলেও বোয়ালমারী উপজেলার প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন বাদে শুধু সাতৈর ইউনিয়ন ৩০০টি কার্ড বরাদ্দ পেয়েছে।
বরাদ্দবঞ্চিত ঘোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব জাগো নিউজকে বলেন, ‘উপজেলার সব বয়স্ক মানুষ কি শুধু সাতৈর ইউনিয়নে বসবাস করেন? আমার ইউনিয়নে ভাতা পাওয়া যোগ্য ব্যক্তিদের কীভাবে বুঝ দেবো?’
এ বিষয়ে সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি আমার ইউনিয়নের চাহিদা অনুযায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের পরিপেক্ষিতে বরাদ্দ পেয়েছি। অন্যান্য ইউনিয়ন হয়তো পরে পেতে পারে।’
উপজেলা বয়স্কভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের বন্ধের আগে চিঠি পেয়েছি। চিঠি পেয়ে বরাদ্দের বিষয়টি জানতে পারি। কীভাবে এ বরাদ্দ হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে কেউ ওপরে তদবির করে আনতে পারে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো চাহিদাপত্রও এখন পর্যন্ত পাঠানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবো।’
এসআর/এএসএম