লাইফস্টাইল

সংযম শেষে হঠাৎ খাবার খেলেই বিপদ

এক মাসের রোজার পর ঈদ উদযাপনে অনেকেই হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। বেশির ভাগ সময়ই স্বাভাবিক থেকে অনেক বেশি মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা তেলযুক্ত খাবার খাওয়া হয়। তবে সংযমের পর এমন আচরণ শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক। তিনি বলেন, এক মাস সংযমের পর হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হঠাৎ বেশি খাবারের সমস্যা

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর হঠাৎ প্রচুর খাবার খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হয়। ফলে পেট ফুলে যাওয়া, অম্বল বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া হঠাৎ বেশি মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক।

অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবারের প্রভাব

রোজার শেষে ভাজাপোড়া বা তেলযুক্ত খাবার অতিরিক্ত খেলে পেট ভারী হয়, বুক জ্বালা এবং হজমে সমস্যা তৈরি হয়। ডা. সাকিয়া হক বলেন, হঠাৎ বেশি খাওয়া হলে লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের ওপর চাপ পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধিও হতে পারে।

আরও পড়ুন:  ঝটপট বানিয়ে নিন বিফ শামি কাবাব ঈদের দিন পাতে রাখুন মুরগির কোরমা বিশেষ দিনে ভিন্ন আয়োজনে রাখুন চিংড়ি দুধে বিরিয়ানি হৃদরোগ ও রক্তচাপের ঝুঁকি

যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ আছে, তাদের জন্য হঠাৎ বেশি খাবার বা অতিরিক্ত লবণ ও মিষ্টি গ্রহণ বিপজ্জনক। রক্তচাপ ওঠানামা বা হৃৎস্পন্দনের বৃদ্ধি হতে পারে। ডা. সাকিয়া হক জানান, এই ধরনের মানুষদের খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা থাকা উচিত।

কীভাবে নিরাপদে খাবার শুরু করবেন পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে মিষ্টি ও তেলযুক্ত খাবার গ্রহণ খাবারের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি রাখা ধীরে ধীরে হজম উপযোগী খাবারের দিকে অগ্রসর হওয়া বিশেষ সতর্কতা দরকার

দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা জরুরি। এতে হঠাৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে ফেলা যায়।

ডা. সাকিয়া হক বলেন, সংযম শেষে হঠাৎ খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের ওপর যে চাপ পড়ে তা এড়িয়ে চলা সম্ভব। পরিমিত খাবার, ধীরগতিতে খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে চললেই ঈদ উদযাপন হবে নিরাপদ ও আনন্দঘন।

জেএস/