দেশজুড়ে

বরাদ্দ পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি!

যশোরের অভয়নগরে উপকারভোগী এক পরিবারের বিরুদ্ধে ৮০ হাজার টাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিক্রি করা ঘরের দলিল ক্রেতার কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে।

উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটেছে।

উপকারভোগী তরিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে বরাদ্দ ঘরের দলিল ওই প্রকল্পের পাশে বসবাসকারী মৃত এহিয়া মোল্যার ছেলে হাসানুর মোল্যার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় পাশাপাশি পাঁচটি ঘর নির্মাণ করা হয়। দুই শতক জমির ওপর একটি ঘর নির্মাণে ব্যয় করা হয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ঘর ও জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সরেজমিন আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে গিয়ে উপকারভোগী তরিকুল ইসলামকে না পেলেও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমকে পাওয়া যায়। এ সময় তিনি ঘর বিক্রি ও দলিল হস্তান্তরের বিষয়ে বলেন, ‘কিছুদিন আগে প্রতিবেশী হাসানুর মোল্যার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ে ওই টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। আগামী দুই মাসের মধ্যে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে ঘর হাসানুরের হয়ে যাবে মর্মে স্ট্যাম্পে লেখা ও সই করা হয়েছে। স্ট্যাম্প ও ঘরের দলিল হাসানুরের কাছে রয়েছে।’ পরে হাসানুর মোল্যাকে বাড়িতে না পেলেও তার স্ত্রী রেকসোনা বেগমকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘তরিকুলের স্ত্রী খাদিজার বিপদের সময় আমার স্বামী দুই কিস্তিতে ৯০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। তারা দুই মাসের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ঘরের দলিল ও স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়ে না থাকা, ক্রয়, বিক্রয় ও ভাড়া দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ করে থাকেন তাহলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শ্রীধরপুরের ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। প্রমাণিত হলে ওই উপকারভোগীর বরাদ্দ বাতিল করে অন্য ভূমি ও গৃহহীনকে ঘরটি দেওয়া হবে।

মিলন রহমান/এসআর