যশোরে প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় কীটনাশক পান করা কিশোরীর (১৪) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া ওই কিশোরীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস মিম। সে জগদীশপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।
এ ঘটনায় কিশোরীর প্রেমিক (১৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মিমের সঙ্গে সেও কীটনাশক পান করেছিল। তারা দুজনই জগদীশপুর-মির্জাপুর ইসমাইল হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, মিমের সঙ্গে ওই কিশোরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় একসঙ্গে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। বুধবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় স্কুল চলাকালীন পরীক্ষা না দিয়ে আগাছানাশক নিয়ে স্কুলের মূল ভবনের পেছনে যায় দুজন। সেখানে মিমের হাতে আগাছানাশক তুলে দেয় প্রেমিক। মিম ওই আগাছানাশক পান করে প্রেমিকের হাতে দেয়। সেও ওই আগাছানাশক পান করে। এরপর দুজনই পরীক্ষার হলে যায়।
প্রায় আধাঘণ্টা পরীক্ষার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে মিম। শিক্ষকরা অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে সে বিষপানের বিষয়টি স্বীকার করে। ওই কিশোরও কীটনাশক পান করেছে বলে সে জানায়। তবে কিশোর বিষয়টি অস্বীকার করে। এরপর সে সম্পূর্ণ পরীক্ষা দেয়। তখন সবাই ভেবেছিল টগর আগাছানাশক পান করেনি।
শিক্ষকরা মিমকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে মিমের মা সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়েকে বিষ খাইয়ে দিয়ে ওই কিশোর পালিয়ে যায়।
যশোরে মিমের অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (৯ জুন) তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই কিশোর। পরিবারের সদস্যরা তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। তাকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে জগদীশপুর গ্রামের বাড়িতে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি বলে জানান চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ।
মিলন রহমান/এসআর/এএসএম