দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনায় ভুগছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল। একপাশে রোগীর বেড আর অপরপাশে পুরাতন ও ভাঙাচোরা আসবাবপত্রের স্তূপ। মনে হয় যেন ময়লার স্তুপ। কেউ ঠিকমতো পরিষ্কারও করে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের এক পাশে রোগী আর অন্য পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ভাঙাচোরা বেড, টেবিল, ট্রলিসহ পুরাতন সরঞ্জাম। দেখে বোঝার উপায় নেই কক্ষটিতে রোগী থাকেন। শুধু তাই নয়, ওয়ার্ডের শৌচাগার থেকে বের হয় দুর্গন্ধ।
মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগী লাকি বেগম বলেন, হাসপাতালের বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ, সেখানে যাওয়া যায় না। গেলেই বমি আসে। একপাশে রোগীদের বেড আর অপরপাশে ময়লা আবর্জনা, পুরাতন ও ভাঙাচোরা আসবাবপত্রের স্তূপ। কেউ ঠিকমতো পরিষ্কারও করে না। একদিন হলো জ্বর নিয়ে ভর্তি আছি, এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক দেখতে আসেননি।
নিরাপদ নামের আরেক রোগীর স্বজন নিরঞ্জন অধিকারী নিরু বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ খুবই খারাপ। এ অবস্থায় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। উপায় না পেয়ে রোগী নিয়ে এসেছি। বাড়ি যেতে পারলে বাঁচি।
শাহিন ও আবুল কালাম নামে দুই রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালের লোকজন থাকে বিভিন্ন ধান্দায়। হাসপাতালের বাথরুমে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক গনেশ কুমার আগরওয়াল জাগো নিউজকে বলেন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ৩২ বেড আছে। ওই ভবন ও ওয়ার্ডে সংস্কার কাজ চলছে। এরপরও রোগীর চাপ থাকায় ওখানে রোগী রাখা হয়েছে। রোগীদের বেশি অভিযোগ থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে।
কাজ কবে শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারের কাজের গতি স্লো।’
ফরিদপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বদরুদ্দুজা টিটো জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিভিল সার্জন বিষয়টি দেখেন। তিনিই সব বলতে পারবেন।
তবে ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান হজ পালনের জন্য ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এন কে বি নয়ন/এসজে/এএইচ/জিকেএস