দেশজুড়ে

আড়াই বছরেও শেষ হয়নি ভৈরব মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকায় মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ আড়াই বছর পার হলেও ১০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। ফলে মডেল মসজিদটি নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মডেল মসজিদের মাটির নিচের অবকাঠামো এবং মাটির ওপরে প্রথমতলার নিচের ভিমের কাজ হয়েছে। দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকায় রডগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে। ফলে দিনে দিনে রডের কার্যক্ষমতা কমছে বহুগুণে। আর এমন দৃশ্য দেখে এলাকাবাসী মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের শেষে ৪০ শতাংশ জায়গায় মডেল মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকার কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচ এম হেলাল এন্টারপ্রাইজ। যদিও পরে সাব ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণকাজের দায়িত্ব বুঝে নেন স্থানীয় কাইয়ুম। কিন্তু নির্মাণকাজ সাব ঠিকাদারের ধীরগতি আর অবহেলার কারণে আটকে যায়। একই সঙ্গে বরাদ্দের টাকা না আসায় কাজ বন্ধ করে দেয় সাব ঠিকাদার।

ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘ আড়াই বছরে মাত্র ১০ শতাংশ কাজ হয়নি। ঠিকাদারের ধীরগতি আর অবহেলার কারণে নির্মাণকাজ আটকে যাওয়ায় উপজেলার ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মুসলমানের মনে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। তাই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন উপজেলাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ মিয়া বলেন, ‘সারাদেশে মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ভৈরবের মডেল মসজিদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে এলাকার মুসল্লিদের এবাদতে বিঘ্ন ঘটছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে সরেজমিনে মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকির জন্য ইমন নামের এক কেয়ারটেকারকে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে মডেল মসজিদের কাজটি ছিল স্থানীয় সাব ঠিকাদার কাইয়ুম সাহেবের। কোনো একটি কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমাদের কোম্পানি নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে। কয়েকটি ভিমের কাজ করার পর কোম্পানি আবার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। কী কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে তা জানি না। এ বিষয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’

উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলা পরিষদ বা পৌরসভাকেন্দ্রিক মডেল মসজিদটি নির্মাণের প্রথম থেকেই অবহেলার শিকার হয়েছে। ঠিকাদারের ধীরগতির কারণে বরাদ্দের টাকা আসা কমে যায়। ফলে মডেল মসজিদ নির্মাণে মাটির নিচের অবকাঠামো এবং মাটির ওপরে প্রথমতলার নিচের ভিম করার পর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধের কারণে মরিচা পড়ে রডগুলো নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ জাগো নিউজকে বলেন, মডেল মসজিদের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানলাম ফান্ড সমস্যার কারণে তারা কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না। স্থানীয় সংসদ সদস্য এটা জানেন। শিগগির সব জটিলতা শেষ করে নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবো।’

এসজে/জেআইএম