ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী গ্রামের বাসিন্দা অমল কুমার রায় (৭০)। কয়েক বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে ঘরবন্দি। চলাফেরা-কথাবার্তা বলতে পারেন না। আকার-ইঙ্গিতে কথা বলেন। কিন্তু ভোট দেওয়ার খুব ইচ্ছা তার। এজন্য অসুস্থ শরীরেই ভোট দিয়েছেন তিনি। পরিবারের লোকজন তাকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
বুধবার (২৭ জুলাই) উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
অমল কুমার রায় মধুখালীর মেগচামী ইউনিয়নের সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নির্বাচনের ভোটের কথা জানতে পেরে তিনি আকার-ইঙ্গিতে স্ত্রী বিশাখা রানীকে জানান তিনি ভোট দিতে যাবেন।
বেলা ১১টার দিকে মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভ্যানে করে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে আসেন স্ত্রী বিশাখা রানী রায়। পরে দুই স্বজনের কাঁধে ভর করে বুথে গিয়ে ভোট দেন অমল কুমার।
বিশাখা রানী রায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর শরীরের একপাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। চলাফেরা, কথাবার্তা বলতে পারেন না। তবে ভোট দেওয়ার কথা আকার-ইঙ্গিতে আমাকে জানান এবং খুব পীড়াপীড়ি করেন। আমি বুঝতে পেরে তাকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছি। ভোটকেন্দ্রের বুথে তাকে নিয়ে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইভিএমে এই প্রথম ভোট দিলাম। আমি ভোট দেওয়ার পর তাকে ভোটের মার্কা দেখিয়েছি। তিনি নিজেই ভোট দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবিএম আজমল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, একজন অসুস্থ মানুষও ভোট দিতে এসেছেন, এটা ভালো দিক।
এন কে বি নয়ন/এসআর/জিকেএস