দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার রানাশাল কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিদিনই ক্লিনিকটিতে স্থানীয় রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন, তবে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের। আর ক্লিনিকটি কবে খোলা হবে তাও জানে না এলাকাবাসী। এর ফলে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে ওই এলাকার মা-শিশুসহ অন্য রোগীরা।
শনিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিন উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রানাশাল কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। যার মধ্যে রানাশাল কমিউনিটি ক্লিনিক একটি। ক্লিনিকটিতে রানাশাল, ভানুয়াবহ ও কলিমাজানি উত্তরাংশের গ্রামের লোকজন সেবা নিয়ে থাকেন।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে চামেলী আক্তার নামে একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী ও একজন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। সিএইচসিপি সপ্তাহে ছয়দিন, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও স্বাস্থ্য সহকারী সপ্তাহে দুইদিন করে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা।
২০১১ সালে পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য সহকারী বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। সিএইচসিপি চামেলী আক্তার গত ১৩ মার্চ থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। এ কারণে ক্লিনিকটি শেষ কবে খোয়া হয়েছিল রানাশাল গ্রামের লোকজন তা বলতে পারেননি।
রানাশাল গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, অনেক দিন ধরে বন্ধ থাকায় ওষুধ নিতে পারছি না। একজন প্রতি মঙ্গলবার আসতো। এখন তাও আসে না।
একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। শনিবার সকালে ওষুধ নিতে ক্লিনিকে এসেছিলাম। বন্ধ থাকায় ধেরুয়া বাজার থেকে ওষুধ আনতে হয়েছে।
ক্লিনিকের পাশে দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহকারী নান্নু মিয়া জানান, ক্লিনিকটি শেষ কবে খোলা হয় তা আমার মনে পড়ছে না। এজন্য গ্রামের লোকজন স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছে না।
এ বিষয়ে সিএইচসিপি চামেলী আক্তার জানান, তিনি গত ১৩ মার্চ থেকে মাতৃকালীন ছুটিতে আছেন। এছাড়া ২০১১ সালে পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য সহকারী বদলি হয়ে অন্যত্র গেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমীন বলেন, পরিবার কল্যাণ সহকারী পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৬৯ জন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ থাকলেও এ উপজেলায় ৩৯ জন কর্মরত আছেন। এছাড়া রানাশালের সিএইচসিপি চামেলী আক্তার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একজন স্বাস্থ্য সহকারী দেওয়া হবে।
এস এম এরশাদ/এমআরআর/জেআইএম